কুরিগ্রাম সীমান্তে আজ প্রাতঃকালীন সময়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নয়জন ভারতীয় নাগরিককে বাধ্য করে বাংলাদেশে প্রবেশ করায়। এদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও ছয়জন নারী ছিলেন, এবং তারা নেগেশ্বরী উপজেলা, কেদার ইউনিয়নের ধালুয়াবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে অতিক্রান্ত হয়।
বিএসএফের এই পদক্ষেপের পর, গ্রুপটি সাভেরখাস এলাকায় পৌঁছায় এবং বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলতে থাকে। বাংলাদেশ সীমানা রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) গলার হাট ও কোচাকাটা বাজারসহ কয়েকটি স্থানে তাদের আটক করে।
বন্দি শাহার আলি, যিনি আসামের বঙাইগাঁ জুবিগোবা থানা অধীনে মেলেগড়া এলাকার বাসিন্দা, জানান যে বিএসএফ তাদের একটি আটক শিবির থেকে নিয়ে গিয়ে অন্ধকারে বারের বারের ফাঁদে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, তাদের মোট নয়জনের একটি দল ছিল।
বিজিবি কুরিগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কলোনেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হাকের মতে, আটক করা নাগরিকদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনা কুরিগ্রাম সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত সীমান্ত অস্বাভাবিকতার ধারাবাহিকতায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পূর্বে একই অঞ্চলে সীমান্তে অযথা অগ্রসর হওয়া ও নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে আটক করার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যা দু’দেশের মধ্যে সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক দিক থেকে, এই ঘটনার পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়ই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা যায়। একটি কূটনীতিকের মতে, এ ধরনের সীমান্ত সংক্রান্ত ঘটনা দু’দেশের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে সীমান্তে মানবাধিকার ও নাগরিক সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনো সশস্ত্র বাহিনীর উচিত মানবিক নীতি মেনে চলা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে নাগরিকদের ঝুঁকিতে না ফেলা।
বিএসএফের এই পদক্ষেপের পেছনে কী প্রেরণা ছিল তা স্পষ্ট না হলেও, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অবৈধ অতিক্রমের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নাগরিকদের অন্ধকারে সীমান্ত পার করা তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে আটক নাগরিকদের সনাক্তকরণ ও তাদের পরিবারকে জানানো হয়েছে। শাহার আলি ও তার সহযাত্রীদের নিরাপদে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
এই ঘটনার পর, কুরিগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়নের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত গশ্বর, নজরদারি ক্যামেরা ও পেট্রোলিং বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় মিটিংয়ের প্রস্তাবও উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, সীমান্তে নিয়মিত সংলাপ ও তথ্য ভাগাভাগি করা পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, আজকের ঘটনা কুরিগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা ও মানবিক দায়িত্বের দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করেছে। দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান ও পুনরাবৃত্তি রোধের পদক্ষেপ নেওয়া প্রত্যাশিত।



