19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস ইউএন-এ ত্রিবছরের যুদ্ধ শেষের জন্য শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন

সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস ইউএন-এ ত্রিবছরের যুদ্ধ শেষের জন্য শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন

সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ত্রিবছরের বেশি সময় ধরে চলমান গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি তৎক্ষণাত্‌ অস্ত্রবিরতি, আরএসএফের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য মানবিক সংকটের তীব্রতা কমিয়ে ১৪ মিলিয়ন শরণার্থীর অবস্থার উন্নতি করা।

যুদ্ধের মূল কারণ হল এপ্রিল ২০২৩-এ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদেল ফতাহ আল‑বুরহান এবং পারামিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) প্রধান মোহাম্মদ হামদান “হেমেদতি” দাগালোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ দ্রুত দেশকে গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত করে, যা আজ বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটের একটি রূপে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দারফুর অঞ্চলে ঘটিত গণহত্যা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিগোচর হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলি উভয় পক্ষকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে রক্তপাত বন্ধের দাবি জানায়। এই চাপের মধ্যে ইদ্রিসের শান্তি পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ এটি সংঘাতের মূল চালিকাশক্তি—আরএসএফ—কে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে।

প্রস্তাবের মূল ধারা হল জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং আরব লীগ তত্ত্বাবধানে তৎক্ষণাত্‌ অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়ন। এছাড়া আরএসএফকে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে, যাতে দেশের সংহতি পুনরুদ্ধার করা যায়। প্রত্যাহারের পর আরএসএফের সদস্যদের শিবিরে স্থানান্তর করে তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে; অপরাধে দোষী না প্রমাণিতদের সমাজে পুনঃসংযোজনের সুযোগ দেওয়া হবে।

বিশ্লেষক জিহাদ মাশামুনের মতে, আরএসএফ বর্তমানে সুদানের প্রায় ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর মধ্যে দারফুর ও কোরডোফান অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ অন্তর্ভুক্ত। অক্টোবর মাসে আরএসএফ উত্তর দারফুরের রাজধানী এল‑ফাশার দখল করে, যেখানে ১,৫০০ের বেশি মানুষ নিহত হয়। একই সঙ্গে তারা দক্ষিণ সুদানের সীমানার নিকটবর্তী হেগলিগ তেলক্ষেত্রও দখল করে, যা ৮ ডিসেম্বর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) দেশের বাকি ৬০ শতাংশ, যার মধ্যে রাজধানী খার্তুম, পূর্বের পোর্ট সুদান এবং উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ রাজ্য অন্তর্ভুক্ত, নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এসএএফের হাতে বিমানশক্তি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরডোফান রাজ্যের আল‑রাহাদের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি শহর পুনরায় দখল করেছে, যা তাদের সামরিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

ইদ্রিস, যাকে মে মাসে সেনাবাহিনীর সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল, আরএসএফের প্রত্যাহার পর তাদের সদস্যদের শিবিরে বসিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর কথা উল্লেখ করেন। যাচাইয়ের ফলাফল যদি অপরাধমুক্ত প্রমাণিত হয়, তবে তাদেরকে সমাজে পুনরায় সংযুক্ত করা হবে, যা দেশের পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে।

শান্তি পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন পরিচালনা করা। ইদ্রিসের মতে, অস্ত্রবিরতি ও আরএসএফের প্রত্যাহার নিশ্চিত হওয়ার পরই সুদানে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকে স্থিতিশীল করবে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিশ্বাস পুনর্স্থাপন করতে সহায়ক হবে।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অনুমোদন এবং পর্যবেক্ষণ মিশনের গঠন প্রয়োজন। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আরব লীগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে শিবিরে স্থানান্তর, যাচাই এবং পুনঃসংযোজন প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে মানবিক সাহায্যের প্রবাহ পুনরায় চালু করা এবং শরণার্থীদের নিরাপদে পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে।

ইদ্রিসের শান্তি উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে সুদানের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সমাপ্তি এবং দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নতুন দিক পাবে। তবে এর বাস্তবায়নকে বাধা দিতে পারে আরএসএফের নেতৃত্বের সম্ভাব্য

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments