বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একটি নির্দেশিকা জারি করে, যাতে নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সহজ করার লক্ষ্যে শনিবার ব্যাংক শাখাগুলো বন্ধ না থাকে। ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীদের নামজোগা ফি ও ভোটার তালিকা ক্রয়ের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত চক্রবৃত্তে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীরা ব্যাংক ড্রাফ্ট, পে অর্ডার অথবা ট্রেজারি চালান ব্যবহার করে যেকোনো নির্ধারিত ব্যাংকের শাখা থেকে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। এভাবে দেশের সব কোণায় প্রার্থীদের জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
এই পদক্ষেপের পেছনে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ রয়েছে। নামজোগা প্রক্রিয়ার সময় ব্যাংক পরিষেবা অবিচ্ছিন্ন রাখতে কমিশন ব্যাংকগুলোকে শনিবারও খোলা রাখতে বলেছে। কমিশনের মতে, লেনদেনের ধারাবাহিকতা না থাকলে প্রার্থীরা সময়মতো ফি জমা দিতে পারবে না।
নামজোগা পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত। তবে ঐ সপ্তাহে ব্যাংকগুলো সাধারণত বন্ধ থাকে; ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাসের কারণে এবং ২৬-২৭ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ছুটির কারণে তিন দিন ধারাবাহিকভাবে বন্ধ থাকত। এই ছুটির দিনগুলোতে লেনদেন বন্ধ থাকলে প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি হতো।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের নামজোগা পত্রের সঙ্গে নিরাপত্তা জামানত এবং ভোটার তালিকা সিডি কেনার ফি জমা দিতে হয়। এই ফি জমা দিতে ব্যাংক ড্রাফ্ট, পে অর্ডার অথবা ট্রেজারি চালান ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক বন্ধ থাকলে এই প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব হতো না।
ব্যাংকগুলোকে শনিবারও খোলা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আর্থিক দায়িত্ব সম্পন্ন করতে পারে। এই ব্যবস্থা দেশের সব শাখায় সমানভাবে প্রয়োগ হবে, ফলে কোনো অঞ্চলে প্রার্থীদের জন্য অতিরিক্ত অসুবিধা হবে না।
নামজোগা প্রক্রিয়ার সময় আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যাংক বন্ধ থাকলে সম্ভাব্য বিলম্ব বা ত্রুটি নির্বাচনী বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারত।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রার্থীরা তাদের নামজোগা ফি এবং ভোটার তালিকা ক্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত এবং নিরাপদে জমা দিতে পারবে। ফলে নামজোগা প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
নিয়মিত ছুটির দিনেও ব্যাংক শাখা খোলা রাখার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আর্থিক সেবা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব জোর দিয়েছে। এটি প্রার্থীদের জন্য আর্থিক বাধা দূর করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।
ভবিষ্যতে, এই ধরনের ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপেও প্রয়োগ করা হতে পারে, যাতে আর্থিক লেনদেনের কোনো বাধা না থাকে। বিশেষ করে বড় নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং সেবা অবিচ্ছিন্ন রাখা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে, প্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা সরবরাহ করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।



