টেক্সাসে নতুন বয়স যাচাইকরণ আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা ফেডারেল আদালতের রায়ের ফলে থেমে গেছে। মঙ্গলবার এক জাজ টেক্সাসের আইনকে বাধা দিয়ে অ্যাপল ও গুগলের মতো অ্যাপ স্টোরকে অবিলম্বে প্রয়োগ থেকে বিরত রাখেন। এই সিদ্ধান্তের পর অ্যাপল টেক্সাসে তার পূর্বে ঘোষিত পরিবর্তনগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
ফেডারেল জাজের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে আইনটি প্রথম সংশোধনী অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে, বিশেষ করে প্রকাশের স্বাধীনতা ও বাণিজ্যিক প্রকাশের ক্ষেত্রে। রায়ে আইনটি জানুয়ারি মাসে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তবে এখন তা অস্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
বিচারক যে আইনটি রোধ করেছেন, সেটি টেক্সাসের সিবি২৪২০, যাকে অ্যাপ স্টোর অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট বলা হয়। এই বিধান অনুযায়ী সব অ্যাপ স্টোরকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে এবং ১৮ বছরের নিচে থাকা ব্যবহারকারীর জন্য পিতামাতার সম্মতি নিতে হবে। এছাড়া ডেভেলপারদের সঙ্গে বয়স সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করার দায়িত্বও আরোপ করা হয়।
আইনের সমর্থকরা দাবি করেন যে এটি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াবে, তবে বিচারক প্রথম সংশোধনী সংরক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে আইনটি প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করতে পারে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস রায়ের পর আদালতে আপিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। রায়ের বিরোধিতা করে তারা বলেছে যে আইনটি টেক্সাসের শিশুদের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং আপিলের মাধ্যমে আইনের বৈধতা রক্ষা করা হবে।
অ্যাপল অক্টোবর মাসে টেক্সাসের জন্য নতুন ডেভেলপার টুলস এবং নীতি ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণায় বলা হয়েছিল যে ১৮ বছরের নিচে সব ব্যবহারকারীকে ফ্যামিলি শেয়ারিং গ্রুপে যুক্ত করতে হবে, যেখানে পিতামাতা বা অভিভাবক ডাউনলোড, কেনাকাটা ও ইন-অ্যাপ লেনদেনের জন্য অনুমতি দেবেন।
ফ্যামিলি শেয়ারিং গ্রুপের মাধ্যমে পিতামাতা যেকোনো সময় তাদের সন্তানের জন্য অনুমোদিত অ্যাপের অনুমতি প্রত্যাহার করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করার পাশাপাশি পিতামাতার নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।
অ্যাপল তার ‘ডিক্লেয়ার্ড এজ রেঞ্জ API’ আপডেটের পরিকল্পনা জানিয়েছে, যা টেক্সাসের নতুন ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টের জন্য প্রয়োজনীয় বয়স বিভাগ সরবরাহ করবে। এই API ডেভেলপারদেরকে ব্যবহারকারীর বয়সের তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করতে সহায়তা করবে।
অ্যাপল এছাড়াও ডেভেলপারদের জন্য নতুন API চালু করার কথা বলেছে, যাতে অ্যাপের উল্লেখযোগ্য আপডেটের সময় আবার পিতামাতার সম্মতি নেওয়া যায়। এই টুলস ডেভেলপারদেরকে আইন মেনে চলা সহজ করবে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বজায় রাখবে।
অ্যাপল এই আইনকে গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে বিরোধিতা করেছে, শিশু সুরক্ষার নয়। কোম্পানি বলেছে যে বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের অতিরিক্ত সংগ্রহের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং তা গোপনীয়তার নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
টেক্সাসের পাশাপাশি ইউটাহ এবং লুইজিয়ানা রাজ্যেও অনুরূপ বয়স যাচাইকরণ আইন আগামী বছর কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাপল এই রাজ্যগুলোর আইনের প্রতি একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।
অ্যাপল জানিয়েছে যে টেক্সাসে আইন রোধের পরও তারা চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার টুলস ও নীতিতে পরিবর্তন আনবে। কোম্পানি ভবিষ্যতে কোনো নতুন নির্দেশনা বা আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
এই developments প্রযুক্তি শিল্পে বয়স যাচাইকরণ ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। আইন প্রণেতা, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে আদালতের রায় এবং আপিল প্রক্রিয়া এই বিষয়ের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



