বৈজ্ঞানিক গবেষকরা সাম্প্রতিক সপ্তাহে খাবার সংক্রান্ত বেশ কিছু অপ্রচলিত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। রেড উড অ্যান্ট (Formica rufa ও F. polyctena) ব্যবহার করে দই তৈরির পদ্ধতি, চীজ শেভিংয়ের পদার্থবিজ্ঞান, পেঁয়াজ কাটা সময় চোখে জল কমানোর কৌশল এবং মিসোকে মহাকাশে পাঠিয়ে স্বাদ পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই ফলাফলগুলো বিজ্ঞান ও রন্ধনশৈলীর সীমানা মেলাতে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
অ্যান্ট দই তৈরির জন্য গবেষকরা কাঁচা গরুর দুধের জারে চারটি লাল কাঠের পিঁপড়া যোগ করেন এবং তা একটি পিঁপড়া গুহার মধ্যে রাখেন। পিঁপড়া কলোনি গরম তাপ উৎপন্ন করে, যা দুধের ফার্মেন্টেশনকে ত্বরান্বিত করে এবং রাতারাতি দইয়ের মতো টক ও ঘন পদার্থে রূপান্তরিত হয়। পিঁপড়ার পৃষ্ঠে থাকা অ্যাসিড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া এবং পিঁপড়া নিজেই দুধকে অম্লীয় করে তোলার ভূমিকা পালন করে।
এই পদ্ধতি পূর্বে বুলগেরিয়া ও তুরস্কের কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ছিল, তবে আধুনিক ল্যাবরেটরিতে পুনরায় পরীক্ষা করা প্রথমবারের মতো। গবেষকরা উল্লেখ করেন, পিঁপড়া ব্যবহার করে দই তৈরির প্রক্রিয়া ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে, যদিও দৈনন্দিন রন্ধনশৈলীতে এটি এখনও অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়।
চীজ শেভিংয়ের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বিশেষ একটি ঘূর্ণায়মান ব্লেড ব্যবহার করে মঙ্কের হেড চীজকে পাতলা করে কাটেন। ব্লেডটি রিন্ডের চারপাশে ঘোরার সময় চীজের কেন্দ্রের দিকে চাপ দেয়, ফলে চীজের মাঝখানে ঘনত্ব বাড়ে এবং প্রান্তে তুলনামূলকভাবে পাতলা থাকে। এই দৈর্ঘ্যের পার্থক্যই চীজের টুকরোগুলোকে বক্রভাবে গড়িয়ে দেয়, যা দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা তৈরি করে।
এই পদ্ধতি শেফদেরকে চীজের টেক্সচার ও চেহারা নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায় প্রদান করে, বিশেষত যখন খাবারের উপস্থাপনায় নান্দনিকতা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা উল্লেখ করেন, ব্লেডের গতি ও কোণ সমন্বয় করে বিভিন্ন আকৃতি ও পুরুত্বের চীজ তৈরি করা সম্ভব।
পেঁয়াজ কাটা সময় চোখে জল আসা কমাতে বিজ্ঞানীরা একটি সহজ কৌশল প্রকাশ করেছেন। ধীর গতিতে এবং ধারালো ছুরি ব্যবহার করলে পেঁয়াজের কোষের ভাঙন কম হয়, ফলে তীব্র গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থের মুক্তি সীমিত থাকে। এই পদ্ধতি গৃহস্থালি রাঁধুনিদের জন্য ব্যবহারিক, কারণ এটি অতিরিক্ত জলের ব্যবহার ছাড়াই চোখের জ্বালা কমাতে সহায়তা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তীক্ষ্ণ ছুরির ধার দীর্ঘস্থায়ী হলে কাটা প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং পেঁয়াজের রসের মুক্তি কমে, যা চোখে জল আনার মূল কারণ। তাই নিয়মিত ছুরি ধারালো রাখা এবং কাটা গতি নিয়ন্ত্রণ করা কার্যকর উপায় হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
মিসোকে মহাকাশে পাঠিয়ে তার স্বাদ পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করাও বিজ্ঞানীদের নতুন প্রকল্পের অংশ। জাপানি সয়াবিন পেস্টটি একটি ছোট কন্টেইনারে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়, যেখানে শূন্যমাধ্যাকর্ষণ ও বিকিরণ পরিবেশে এটি কয়েক দিন থাকে। ফিরে আসার পর মিসোর গন্ধ ও স্বাদে সূক্ষ্ম পার্থক্য রেকর্ড করা হয়, যা ভবিষ্যতে মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংরক্ষণ ও স্বাদ উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
এই গবেষণাগুলো বিজ্ঞান ও রন্ধনশৈলীর সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে, যেখানে ল্যাবরেটরি পদ্ধতি দৈনন্দিন খাবারের গুণগত মান ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারে। গবেষকরা প্রত্যেক বৃহস্পতিবারের সংক্ষিপ্তসারে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি উপস্থাপন করে থাকেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য ও তথ্যবহুল।
এইসব উদ্ভাবনী পরীক্ষার ফলাফল রন্ধনশৈলীর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। আপনি কি আপনার রান্নাঘরে এই নতুন পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করতে আগ্রহী? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



