ময়মনসিংহ ও খুলনা শহরে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র হকারদের সমাবেশে প্রথাম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলে ধরেন।
ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে দুপুরে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সংবাদপত্র হকার সমাবয় সমিতি ও অন্যান্য মিডিয়া সংস্থার প্রতিনিধিরা একত্রে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, সংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সভাপতি মো. আয়ুব আলী, তার সহ-সচিব আমানুল্লাহ আকন্দা, ময়মনসিংহ টিভি সাংবাদিক সমিতির সচিব আবু সেলাহ মোহাম্মদ মুসা, তার সহ-সভাপতি শরিফুজ্জামান তিতু, নিউজ চ্যানেল সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. হারুন-উর-রশিদ ও তার সচিব এ.এস.এম. হোসেন শাহিদ, আমর দেশ থেকে আবদুল কায়ুম, ময়মনসিংহ সংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মীর গোলাম মুস্তাফা, তার সহ-সচিব সুলতান মাহমুদ কনিক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিহাদুজ্জামান জিহাদ, সংবাদপত্র হকার সমাবয় সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রিপন, ময়মনসিংহ বুক সেন্টারের ব্যবস্থাপক আবদুল আজিজ এবং প্রাক্তন প্রেস ক্লাবের সহ-সচিব অমিত রায়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে আক্রমণকারীরা পূর্ব পরিকল্পনা করে অফিসে প্রবেশ করে সম্পত্তি লুট করেছে এবং ভিতরে আটকে থাকা সাংবাদিকদের হত্যা করার চেষ্টা করেছে। অগ্নিকাণ্ড দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল, তবে সরকার সময়মতো হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযুক্তরা ঢাকা শহরের করওয়ান বাজারে একই রকম আক্রমণ করেছিল, যেখানে মিডিয়া অফিসগুলোকে লক্ষ্য করে দহল করা হয়। সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আগেই ঘটনাটি জানার কথা না জানার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
অভিযুক্তদের অব্যাহত অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা প্রেসের স্বাধীনতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে বলে অংশগ্রহণকারীরা সতর্কতা প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, যদি অপরাধে কোনো শাস্তি না দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও অনুরূপ আক্রমণ ঘটতে পারে।
খুলনায় শাহীফ জিরো-জাহাঙ্গীর স্কোয়ারে আরেকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশটি ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) ও ‘সোডাজাগ্রতা ময়মনসিংহ’ সংগঠনগুলো মিলিয়ে আয়োজন করে।
সেখানে উপস্থিতরা একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন; আক্রমণকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, অপরাধের পেছনের পরিকল্পনাকারীকে বিচারের আওতায় আনা এবং উদাহরণস্বরূপ শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন যে, মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের কাজের স্বাধীনতা রক্ষা করা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মৌলিক শর্ত। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ত্বরিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।
প্রতিবাদে উল্লিখিত দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পুলিশ ও তদন্ত বিভাগকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে প্রমাণ সংগ্রহ ও সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধিকন্তু, মিডিয়া সংস্থাগুলো আদালতে মামলার দায়েরের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে আক্রমণের শিকার সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে, তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



