প্রযুক্তি জগতের বার্ষিক প্রতিযোগিতা TechCrunch Startup Battlefield-এ এই বছর ২০০টি আবেদন থেকে শীর্ষ ২০টি স্টার্টআপকে মঞ্চে আনা হয়। এদের মধ্যে ১৪টি এগটেক ও ফুডটেক ক্ষেত্রের উদ্ভাবনী কোম্পানি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যাদের সমাধান কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের টেকসইতা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে। এই স্টার্টআপগুলো কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, তা নিচে বিশদে তুলে ধরা হল।
Äio একটি ইস্ট স্ট্রেইন ব্যবহার করে কৃষি বর্জ্য, যেমন কাঠের গুঁড়া, থেকে খাবার ও কসমেটিক্সে ব্যবহারযোগ্য চর্বি উৎপাদন করে। এই পদ্ধতি বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরিত করে, ফলে পরিবেশগত চাপ কমে এবং চর্বি উৎপাদনের জন্য প্রচলিত তেল বীজের চাহিদা হ্রাস পায়।
Aquawise শ্রীম্প ও মাছের খামারে জলমান পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট ইমেজারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রিয়েল‑টাইম ডেটা সরবরাহ করে। প্রচলিত সেন্সরের উচ্চ খরচ বাদ দিয়ে, এই সেবা পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোগের ঝুঁকি ও পানির গুণগত মানের পরিবর্তন দ্রুত সনাক্ত করতে সক্ষম।
Clave ফাস্ট‑ফুড চেইনের জন্য AI‑এজেন্ট তৈরি করেছে, যা ঐতিহাসিক ও বর্তমান বিক্রয় ডেটা বিশ্লেষণ করে দ্রুত প্রমোশন পরিকল্পনা তৈরি করতে সাহায্য করে। ডেটা‑চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি ও গ্রাহক সন্তুষ্টি উন্নত করার লক্ষ্য রাখে।
CredoSense একটি পোর্টেবল ডায়াগনস্টিক ডিভাইস প্রদান করে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফসলের স্বাস্থ্যের সূচক মাপতে পারে। একক যন্ত্রে বিভিন্ন ফসলের রোগ ও পুষ্টি ঘাটতি সনাক্ত করার প্রযুক্তি সংযুক্ত, ফলে কৃষকরা দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
Forte Biotech ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যৌথভাবে প্যাটেন্টেড প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা চিংড়ি ও অন্যান্য জলে বসবাসকারী প্রাণীর রোগ দ্রুত শনাক্ত করে। বিশেষজ্ঞের সহায়তা ছাড়াই রোগ নির্ণয় সম্ভব হওয়ায় খামার পরিচালনার খরচ ও সময় কমে যায়।
Genesis মাটির ডেটা বিশ্লেষণের জন্য একটি বিজনেস ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যা কৃষি প্রতিষ্ঠানকে মাটির গুণগত মান ও পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্জন্মমূলক চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক।
এই স্টার্টআপগুলো প্রত্যেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি ও ডেটা বিশ্লেষণকে সংযুক্ত করে কৃষি ও খাদ্য শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কাজ করছে। তাদের উদ্ভাবন শুধু খরচ কমায় না, বরং টেকসই চাষাবাদ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষি খাতেও গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে, যা স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে।
TechCrunch-এর এই তালিকা দেখায় যে গ্লোবাল স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে এগটেক ও ফুডটেকের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে, এবং উদ্ভাবনী সমাধানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে।



