বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বইমোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তরিক রহমানের দেশে ফিরে আসা এবং তার উপস্থিতিকে দীর্ঘদিনের জনগণের প্রত্যাশা হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তরিক রহমানের ‘আমি আগন্তুক নই’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যা দলের উচ্চপদস্থ নেতাদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
এই অনুষ্ঠানে আমীর খসরু তরিক রহমানের আগমনকে শুধুমাত্র একজন নেতার ফিরে আসা হিসেবে নয়, বহু বছর ধরে জনগণ যে পরিবর্তন ও নেতৃত্বের আশা করে আসছে তার বাস্তবায়ন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তরিকের ফিরে আসা এক ধরনের উৎসবের মতো, যদিও তা সাময়িক, তবে এর পেছনে জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে।
বিএনপির তরুণ সদস্যদের মধ্যে ধৈর্যের অভাবকে তিনি দেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। নতুন প্রজন্মের দ্রুত ফলাফল চাওয়ার প্রবণতা, তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে তরিকের ফিরে আসা এবং তার নেতৃত্বের প্রত্যাশা, বিশেষত গ্রামীণ ও শহুরে ভোটারদের মধ্যে, পার্টির পুনর্গঠন ও সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন।
সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভাষার মূল্যায়নের বিষয়েও আমীর খসরু স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকের ঐতিহ্যকে সম্মান করা দরকার, যাতে সামাজিক সংহতি বজায় থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গি, তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বহুমুখী সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।
মিডিয়া স্বাধীনতার প্রশ্নেও তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন। গণমাধ্যমের স্বতন্ত্রতা রক্ষা না হলে জনমত গঠন ও তথ্যের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এ কথা তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আলোচনা নিশ্চিত করা, এবং সরকারের নীতি-নির্ধারণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানো, এসবই দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
সহনশীলতা ও সহমর্মিতার আহ্বানও তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক বিরোধের সময়ে সহনশীলতা বজায় রাখা, পারস্পরিক মতবিরোধকে সহনীয়ভাবে মোকাবিলা করা, এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সমঝোতা গড়ে তোলা, এসবই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যের পটভূমিতে তরিক রহমানের সাম্প্রতিক দেশে ফিরে আসা এবং তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের পুনরায় সূচনা রয়েছে। তরিকের ফিরে আসা, যা পূর্বে নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশে ফিরে আসার কথা জানানো হয়েছিল, এখনো পার্টির ভিতরে ও বাহিরে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা ও পরিকল্পনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপস্থিতি, বিশেষত নির্বাচনী সময়ের কাছাকাছি, বিএনপির জন্য ভোটার সংযোগ স্থাপন ও সংগঠন শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য বক্তব্য, পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তরিকের ফিরে আসা এবং আমীর খসরুর উল্লেখিত সংস্কৃতি, ভাষা ও মিডিয়া স্বাধীনতার বিষয়গুলো, পার্টির নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে। বিশেষত, তরুণ ভোটারদের মধ্যে ধৈর্যের অভাব মোকাবিলায় কীভাবে পার্টি কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি বইমোড়ক উন্মোচনই নয়, বরং বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন উদ্যম ও জনমতের পুনঃসংযোগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তরিকের ফিরে আসা এবং আমীর খসরুর উল্লিখিত দৃষ্টিভঙ্গি, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে পার্টির কার্যক্রম ও নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলবে।



