22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটজনসচেতনতা প্রচারের প্রধান সমন্বয়ক নিযুক্ত

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটজনসচেতনতা প্রচারের প্রধান সমন্বয়ক নিযুক্ত

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আলী রীয়াজকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটজনসচেতনতা প্রচারের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই পদবী তার ওপর বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অফিস আদেশের মাধ্যমে আরোপিত হয়। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, একই দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

অফিস আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে রীয়াজের প্রধান কাজ হবে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী ও গণভোট সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করা, যাতে জনগণ ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা পায়। তিনি interim সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যাপক প্রচার‑প্রচারণার তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

রীয়াজের এই নতুন দায়িত্বের পূর্বে ১৩ নভেম্বর তাকে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার আগে তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি হিসেবে কাজ করছিলেন, যেখানে তিনি সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কাজের তত্ত্বাবধান করতেন।

গত বছর দেশের সাম্প্রতিক গণ‑অভ্যুত্থানের পর সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এদের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজকে নিয়োগ করা হয়। এই কমিশন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের গঠনকে সূচনা করে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের সভাপতি হলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, আর রীয়াজকে সহসভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। কমিশনটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রায় আট মাস আলোচনা চালিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) চূড়ান্ত করে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২৮ অক্টোবর interim সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সুপারিশ জমা দেয়। সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা হয়, যা সংবিধান সংশোধনের আইনি ভিত্তি সরবরাহ করে। এই সনদের অনুমোদনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়।

গণভোট ও সংসদীয় নির্বাচনের সমন্বিত তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ জুলাই জাতীয় সনদের অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ পাবে, আর একই দিনে সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে। উভয়ই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রচারের দায়িত্বে রীয়াজকে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগের পেছনে সরকার ভোটারদের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধ করা এবং ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণের ইচ্ছা জাগ্রত করা লক্ষ্য রাখে। তিনি বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, গ্রামীণ সভা ও শিক্ষামূলক কর্মশালার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোও এই উদ্যোগকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে। বিরোধী দলগুলো সমন্বিত প্রচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, আর শাসক দল এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালীকরণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ ভোটার অংশগ্রহণ ও নির্বাচনের বৈধতায় প্রভাব ফেলবে।

সফল ভোটজনসচেতনতা প্রচার যদি বৃহৎ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, তবে গণভোটের ফলাফল ও সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল উভয়ই দেশের সংবিধানিক রূপান্তর ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হয়ে উঠবে। রীয়াজের নেতৃত্বে চালু হওয়া এই ব্যাপক প্রচারাভিযান দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনমতকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments