ক্রিসমাস ইভে বাবা সান্তা কোথায় আছেন জানতে চান অনেক বাবা-মা। নোর্যাড (উত্তর আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড) ১৯৫৫ সালে প্রথম সান্তা ট্র্যাকার চালু করে, তখন এটি শুধু মানচিত্রে স্লেজের অ্যানিমেশন দেখাতো। এরপর থেকে সাইটে গেম, ভিডিও, গল্প ও ক্রিসমাস গানের মতো নানা উপাদান যোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি নোর্যাডের সান্তা ট্র্যাকার ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করে এআই চালিত নতুন ফিচার যুক্ত করেছে। ব্যবহারকারীর সেলফি আপলোড করলে এআই তা অ্যানিমেটেড এলফ চরিত্রে রূপান্তরিত করে, যা পরিবারে মজা বাড়ায়। আরেকটি টুল ব্যবহারকারীর ধারণা থেকে খেলনা ডিজাইন তৈরি করে, তা প্রিন্টযোগ্য রঙিন বইয়ের পৃষ্ঠায় রূপান্তর করে দেয়। তাছাড়া, ফাঁকা জায়গা পূরণ করার গল্প তৈরির সুবিধা রয়েছে; নাম, স্থান ইত্যাদি যোগ করে পরিবারে একসাথে পড়ার জন্য মৌলিক ছুটির গল্প তৈরি করা যায়।
নোর্যাডের ট্র্যাকার এখন ২ডি মানচিত্রের বদলে সিসিয়ামের ওপেন সোর্স ৩ডি ম্যাপিং লাইব্রেরি ব্যবহার করে সান্তার যাত্রার ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখায়। বিং ম্যাপসের স্যাটেলাইট ইমেজ যুক্ত হওয়ায় গ্লোবের চেহারা আরও বাস্তবসম্মত হয়েছে। সাইটে “সান্তা ক্যাম” নামের একটি সেকশন আছে, যেখানে সান্তা বিশ্বজুড়ে উপহারের ডেলিভারি করতে গিয়ে ভিডিও রেকর্ড করা হয়।
সাইটের নর্থ পোল ভিলেজে ক্রিসমাস কাউন্টডাউন, আর্কেড শৈলীর গেম, শিশু-বান্ধব সঙ্গীত, অনলাইন লাইব্রেরি এবং নোর্যাডের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা বিভিন্ন ভিডিও পাওয়া যায়। এই সব কন্টেন্ট ইংরেজি, চীনা, ফরাসি, স্প্যানিশ, জাপানি, জার্মান, ইতালিয়ান এবং পর্তুগিজ ভাষায় উপলব্ধ, ফলে বিশ্বব্যাপী পরিবারগুলো সহজে ব্যবহার করতে পারে।
সান্তা ট্র্যাকার ব্যবহার করতে চাইলে নোর্যাডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট noradsanta.org-এ ভিজিট করা যায় অথবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে স্টোর থেকে “NORAD Tracks Santa” অ্যাপ ডাউনলোড করা সম্ভব। উভয় প্ল্যাটফর্মেই একই ফিচারগুলো পাওয়া যায়, ফলে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট থেকে রিয়েল-টাইমে সান্তার অবস্থান অনুসরণ করা যায়।
এই এআই ফিচারগুলো পরিবারে প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সংযোগ ঘটায়। সন্তানদের সেলফি দিয়ে এলফ বানানো, নিজেরাই রঙিন বই তৈরি করা এবং গল্পে নিজের নাম যুক্ত করা তাদের সৃজনশীলতা বাড়ায়, একই সঙ্গে সান্তার যাত্রা রিয়েল-টাইমে দেখার মাধ্যমে ছুটির উল্লাস বাড়ে। নোর্যাডের দীর্ঘদিনের সান্তা ট্র্যাকিং ঐতিহ্যকে এআই দিয়ে আধুনিকীকরণ করা প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে উদাহরণস্বরূপ উপস্থাপন করে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের এআই-ভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ প্ল্যাটফর্ম আরও বিস্তৃত হতে পারে, যেমন শিক্ষামূলক গেম, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগতকৃত উপহারের সুপারিশ। নোর্যাডের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও সুরক্ষা সংস্থার সহযোগিতা এই ধরণের উদ্ভাবনকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। ফলে, ক্রিসমাসের ঐতিহ্যিক আনন্দকে ডিজিটাল যুগে নতুন রূপে উপভোগ করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, নোর্যাডের সান্তা ট্র্যাকার এখন এআই দিয়ে সমৃদ্ধ, ৩ডি মানচিত্র, সেলফি-টু-এলফ রূপান্তর, রঙিন বই জেনারেটর এবং ব্যক্তিগত গল্প তৈরির সুবিধা সহ পরিবারকে আরও মজাদার ও শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। এই প্রযুক্তি শুধু সান্তার অবস্থান জানায় না, বরং ছুটির মৌসুমে সৃজনশীলতা ও পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।



