ভ্যাঙ্কুভারে দুই মাসের অবস্থানকালে একটি চালক ২০২৪ মডেলের টয়োটা প্রিয়াস প্রাইম ভাড়া নিয়ে প্লাগ‑ইন হাইব্রিডের বাস্তব পারফরম্যান্স পরীক্ষা করেন। উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া PHEV হিসেবে এই গাড়ি দীর্ঘ হাইওয়ে যাত্রা থেকে উত্তর কানাডা পর্যন্ত চালিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যবহারিকতা মূল্যায়ন করা হয়।
লম্বা সময় গাড়ি না কিনে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ভাড়া নেওয়া একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়। প্রিয়াস প্রাইমের জনপ্রিয়তা এবং টয়োটার হাইব্রিড ঐতিহ্য এই নির্বাচনকে সমর্থন করে।
২০২৩ সালে গৃহীত নতুন ওয়েজড ডিজাইন গাড়ির বাহ্যিক রূপকে আরও এয়ারোডাইনামিক করে তুলেছে। পূর্বের বক্সি মডেলের তুলনায় এই সংস্করণটি অধিক আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত। নিম্ন গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বায়ুপ্রবাহ বাড়িয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে, তবে উচ্চতা বেশি বা বয়স্ক যাত্রীদের জন্য প্রবেশে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।
অভ্যন্তরে সিটগুলো ভালভাবে গাদামি এবং হিটেড, যা দশ ঘণ্টা পর্যন্ত হাইওয়ে ড্রাইভে আরাম প্রদান করে। উত্তর কানাডার শীতল পরিবেশে ঠাণ্ডা বা ক্লান্তি অনুভূত হয়নি। তবে কম সিটের উচ্চতা এবং মোটা ফ্রন্ট পিলার কখনো কখনো ট্র্যাফিকের দৃশ্য বাধা দেয়।
ড্যাশবোর্ডে র্যাপ-অ্যারাউন্ড ডিজাইন এবং ৮‑ইঞ্চি টাচস্ক্রিন রয়েছে। ওয়্যারলেস অ্যাপল ক্যারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো সমন্বিত, ফলে দীর্ঘ যাত্রায় মিডিয়া স্ট্রিমিং সহজ হয়। কিছু সাম্প্রতিক সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ির তুলনায় প্রযুক্তি স্তর সামান্য পিছিয়ে, তবে ব্যবহারিকতা বজায়।
গাড়িতে লেন‑কিপিং, অ্যাডাপটিভ ক্রুজ, অটো ব্রেকিং সহ বিভিন্ন ড্রাইভার‑অ্যাসিস্ট ফিচার যুক্ত, যা ভ্যাঙ্কুভারের জটিল ট্র্যাফিকে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। সত্যিকারের এক‑পেডাল মোড না থাকলেও কাছাকাছি একটি মোড উপলব্ধ। এই সিস্টেমগুলো নিরাপত্তা ও ড্রাইভারের ক্লান্তি কমাতে সহায়ক।
প্রিয়াস প্রাইমের পাওয়ারট্রেইন ২.০ লিটার গ্যাসোলিন ইঞ্জিন (১৫০ হর্সপাওয়ার) এবং ১৬১ হর্সপাওয়ার ইলেকট্রিক মোটর নিয়ে গঠিত। সমন্বিত আউটপুট ২২০ হর্সপাওয়ার, যা পূর্বের মডেলের তুলনায় প্রায় ১০০ হর্সপাওয়ার বেশি। এই শক্তি বৃদ্ধি ত্বরান্বিত ত্বরান্বিত গতি এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে সহায়তা করে। টয়োটার হাইব্রিড কৌশলের মূল অংশ হিসেবে এই সংমিশ্রণ কাজ করে।
বৈদ্যুতিক চালনার জন্য ১৩.৬ kWh লিথিয়াম‑আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যার ব্যবহারযোগ্য ক্ষমতা ১০.৯ kWh। ২৪০ ভোল্ট আউটলেট থেকে চার্জ করতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগে, যেখানে ১২০ ভোল্ট গৃহস্থালির সকেটে সময় দ্বিগুণ হয়। গাড়িতে ডি.সি. ফাস্ট‑চার্জিং সুবিধা না থাকায় দ্রুত রিচার্জের সুযোগ সীমিত।
লেখকের রুটে প্লাগ‑ইন মোডে চালিয়ে জ্বালানি খরচে স্পষ্ট হ্রাস দেখা যায়। দৈনন্দিন যাত্রায় বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে জ্বালানি ব্যয় কমে। তবে পরিবেশগত প্রভাব বিদ্যুৎ উত্স ও ড্রাইভিং প্যাটার্নের উপর নির্ভরশীল, তাই তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। ব্যক্তিগত জ্বালানি সাশ্রয় স্পষ্ট, তবে বৃহত্তর ইকো‑সিস্টেমে প্রভাব অনিশ্চিত।
কানাডার শীতল আবহাওয়ায় হিটেড সিটের সুবিধা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যাটারির পারফরম্যান্স কম তাপমাত্রায় কিছুটা ধীর হলেও স্থিতিশীল থাকে। নিম্ন গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স পেভড হাইওয়ে চালাতে বড় বাধা নয়। স্ট্যান্ডার্ড শীতকালীন টায়ার ব্যবহার করে তুষারযুক্ত রাস্তায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে।
অন্যান্য PHEV গাড়ির সঙ্গে তুলনা করলে প্রিয়াস প্রাইমের প্রযুক্তি দৃঢ়, তবে দ্রুত চার্জিং ও প্রিমিয়াম ইন্টারিয়র ক্ষেত্রে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী এগিয়ে। ডি.সি. ফাস্ট‑চার্জের অভাব নতুন মডেলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রাখে। তবু টয়োটার বিস্তৃত ডিলার নেটওয়ার্ক এবং নির্ভরযোগ্যতা এটিকে ব্যবহারিক পছন্দ করে তোলে। হাইব্রিড ক্ষেত্রে টয়োটার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা স্পষ্ট



