আজ ঢাকা শহরে ডি.আর.ইউ (Dhaka Reporters Unity) তার সদর দফতরে মানব শৃঙ্খল গঠন করে একটি প্রতিবাদ আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল দৈনিক স্টার ও প্রথম আলো অফিসে সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করা। প্রতিবাদকারীরা উল্লেখ করেছেন যে এই আক্রমণগুলি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার সরাসরি হুমকি।
মানব শৃঙ্খলটি ডি.আর.ইউর সদস্যদের দ্বারা গঠিত হয় এবং সমাবেশের সময় সকল অংশগ্রহণকারী একে অপরের হাতে হাত রেখে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছে। শৃঙ্খলের মাধ্যমে তারা মিডিয়া কর্মী ও প্রকাশনা সংস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বার্থপর গোষ্ঠী মিডিয়া কর্মী বা সংস্থার ওপর আক্রমণ চালাতে না পারে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। তারা দাবি করেছেন যে দায়ী ব্যক্তিদের উদাহরণস্বরূপ শাস্তি না দিলে অন্যায় কাজের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
ডি.আর.ইউর মানব শৃঙ্খল গঠনের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে—সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার, যাতে স্বার্থপর শক্তি মিডিয়া সংস্থার ওপর আক্রমণ চালাতে না পারে। এই ঐক্যবদ্ধতা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মূল চাবিকাঠি হবে।
প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে মিডিয়া সংস্থার ওপর আক্রমণ কোনো নতুন ঘটনা নয়। অতীতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, তবে সেসবের জন্য যথাযথ শাস্তি না দেওয়ায় অপরাধীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে আবার আক্রমণ চালাতে পারে। এই ধারাবাহিকতা মিডিয়া স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।
প্রতিবাদটি কেবল দৈনিক স্টার ও প্রথম আলো অফিসে হামলার নিন্দা নয়, বরং নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর করা হয়রানি এবং ডি.আর.ইউর সাধারণ সম্পাদক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গৃহীত ‘মিথ্যা মামলা’কেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব অভিযোগের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন বলে তারা উল্লেখ করেছে।
মানব শৃঙ্খল গঠনের সময় ডি.আর.ইউর সভাপতি আবু সেলেহ আকন উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সমাবেশের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তার ভাষণে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির গুরুতরতা তুলে ধরেছেন।
আকন জানান, হামলায় জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তি ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে, তবে বাকি অপরাধী ও উস্কানিদাতা ব্যক্তিদের তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা দরকার। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এই ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রতিবাদে তিনি সরকারকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের উপস্থাপন না করলে সাংবাদিকরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্কতা জানিয়েছেন। এই সময়সীমা পূরণ না হলে মিডিয়া কর্মীরা নতুন আন্দোলন শুরু করতে পারে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আকন আরও উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়া সংস্থার ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন।
অতীতের কিছু ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, পূর্বে সরকারী সময়ে সঙ্গ্রাম, নয়া দিগন্ত এবং অমর দেশ মত পত্রিকাগুলোর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, এবং সম্পাদক আবদুল আসাদ ও মাহমুদুর রহমানের ওপর অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে। সেই সময়ে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়বিচার চাওয়া না হলে অপরাধীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে গিয়েছিল।
এইসব ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনো শেষ হয়নি, তাই তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এখনই সময় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসাথে দাঁড়ানোর, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বার্থপর গোষ্ঠী মিডিয়া সংস্থার ওপর আক্রমণ চালাতে না পারে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও কর্মীরা একত্রে এই দাবিগুলো পুনরাবৃত্তি করে এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে মিডিয়া সংস্থাগুলো এই মানব শৃঙ্খলকে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।



