27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিটেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন, এনটিএমসি বিলুপ্তি ও ইন্টারনেট...

টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন, এনটিএমসি বিলুপ্তি ও ইন্টারনেট বন্ধের নিষেধাজ্ঞা

সরকার বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের অধিবেশনে টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করেছে। এই খসড়া অনুযায়ী জাতীয় টেলিকমিউনিকেশনস মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করে নতুন সংস্থা গঠন করা হবে, যা টেলিকম সেবা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নতুন সংস্থার নাম রাখা হয়েছে সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)। সিআইএসের কাজের মধ্যে থাকবে বৈধ অনুমোদনপ্রাপ্ত আধা-ন্যায়িক কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে আড়িপাতের কার্যক্রম পরিচালনা করা, যাতে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।

এনটিএমসির পরিবর্তে সিআইএসের গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন, কারণ পূর্বে আড়িপাতের অনুমোদন ও তদারকি একক সংস্থার অধীনে সীমিত ছিল। আধা-ন্যায়িক কাউন্সিলের অংশগ্রহণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে, যা নাগরিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

অধিকন্তু, নতুন অধ্যাদেশের খসড়ায় একটি স্পষ্ট ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট ও টেলিকম সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না বলে উল্লেখ আছে। এই বিধানটি ডিজিটাল অধিকারকে সুরক্ষিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সেবার অব্যাহততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই ধারা দেশের আইনি কাঠামোতে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পূর্বে সেবা বন্ধের অনুমতি সীমিত শর্তে দেওয়া হতো, তবে এখন সেবার ধারাবাহিকতা সংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশের সংশোধনী খসড়া একমত হয়ে অনুমোদিত হয়েছে। এই অনুমোদন সরকারকে আইনগতভাবে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ভিত্তি প্রদান করবে।

টেলিকম সেক্টরে এই পরিবর্তনকে প্রযুক্তি নীতি ও ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্যের দ্রুত প্রবাহ ও নিরাপদ সংযোগের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবা বন্ধের ঝুঁকি কমাতে এই ধারা প্রয়োজনীয় বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।

দেশের প্রধান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তারা বলছে, সিআইএসের গঠন ও আধা-ন্যায়িক কাউন্সিলের অংশগ্রহণ তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার হুমকির মোকাবেলায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যতে সিআইএসের কাজের পরিধি বিস্তৃত হতে পারে, যেমন সাইবার অপরাধের তদন্ত, জরুরি যোগাযোগের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক তথ্য আদানপ্রদানের নিয়মাবলী রক্ষা। এসব দায়িত্বের জন্য উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মী ও আধুনিক প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রয়োজন হবে।

ইন্টারনেট বন্ধের নিষেধাজ্ঞা বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জনস্বাস্থ্যের সংকটে, সেবা অব্যাহত রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারা নিশ্চিত করবে যে, কোনো সরকার বা সংস্থা স্বেচ্ছায় সেবা বন্ধ করে জনমতকে দমন করতে পারবে না।

অধিকন্তু, এই নীতির ফলে ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, কারণ ডিজিটাল সেবার স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিতে সেবা বন্ধের ঝুঁকি কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারের প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষে, টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর এই সংস্কারগুলো দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে, নাগরিকের তথ্য অধিকার রক্ষা করবে এবং সেবা বন্ধের ঝুঁকি দূর করবে। সরকার এই নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করলে টেলিকম সেক্টরে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments