সুদানির প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিসের দ্বারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপিত শান্তি পরিকল্পনা, আরব লীগের সেক্রেটারি-জেনারেল আহমেদ আবুল গেইতের সমর্থন পেয়েছে। গেইত বুধবার ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব লীগকে এই উদ্যোগের পক্ষে দাঁড়াতে দেখে, পরিকল্পনার রাজনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা দিকের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে, অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
গেইত উল্লেখ করেন, আরব লীগ সম্প্রতি প্রকাশিত এই উদ্যোগকে সমর্থন করে, যা যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাতের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি পরিকল্পনার ‘উচ্চ গুরুত্বের রাজনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা বার্তা’কে প্রশংসা করে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ইদ্রিসের মতে, এই পরিকল্পনা সুদানের নিজস্ব উদ্যোগ, কোনো বহিরাগত চাপের ফল নয়; তিনি এটি ‘হোমমেড’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমন্বয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ কর্তৃক প্রস্তাবিত ত্রাণমূলক চুক্তির তুলনায় এই পরিকল্পনার স্বতন্ত্রতা জোর দেন।
ইদ্রিস নিরাপত্তা পরিষদের সামনে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সস (RSF) এর প্রত্যাহার দাবি করেন। তিনি বলেন, RSF যদি ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং অস্ত্রহীন না হয়, তবে কোনো চুক্তি সফল হবে না। এভাবে তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধানে RSF‑এর সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়তা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেন।
RSF‑এর কমান্ডার উপদেষ্টা আল‑বাশা তিবিক, যিনি নভেম্বর মাসে কোয়াডের মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব স্বীকার করেছিলেন, ইদ্রিসের পরিকল্পনাকে ‘রাজনৈতিক কল্পনা’ বলে খারিজ করেন। তিবিকের মতে, RSF‑এর প্রত্যাহার বাস্তবিকভাবে অসম্ভব এবং তা কল্পনার স্তরে সীমাবদ্ধ।
RSF একটি ফেসবুক পোস্টে পরিকল্পনাকে ‘পুরনো ও বর্জনমূলক রেটোরিকের পুনরাবৃত্তি’ বলে সমালোচনা করে, এবং এটিকে সুদানের সামরিক প্রধান জেনারেল আবদেল‑ফত্তাহ আল‑বুরহানের মতামতের সঙ্গে সমানভাবে দেখায়। বুরহান পূর্বে কোয়াডের মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, যুক্তি দেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অংশগ্রহণ পরিকল্পনাকে পার্টি‑বৈষম্যমূলক করে তুলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত RSF‑কে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করার অভিযোগ অস্বীকার করে, এবং সুদানের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়েরের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে সমালোচনা করে। তবুও, আরব লীগে এই পরিকল্পনার সমর্থন, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
গেইত আরব লীগকে ‘ইতিবাচক সম্পৃক্ততা’ বজায় রাখতে এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে শক্তিশালী করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আরব লীগ এই উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে চায়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই সমর্থন, ভবিষ্যতে কোনো রেজোলিউশন গঠনের ভিত্তি হতে পারে। যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে RSF‑এর ক্যাম্পে সীমাবদ্ধতা এবং অস্ত্রহীনতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মিশনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।
অঞ্চলীয় শক্তিগুলোর, বিশেষত কোয়াডের সদস্য দেশগুলোর, এই সমর্থনকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা সুদানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। আরব লীগ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত চাপ, যদি RSF‑এর প্রত্যাহারকে বাস্তবায়নযোগ্য করে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে।
অবশেষে, সুদানের সরকারী শান্তি পরিকল্পনা আরব লীগের সমর্থন পেয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে নতুন আলো পেয়েছে। তবে RSF ও সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক অবিশ্বাস, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা, পরিকল্পনার সফলতা নির্ধারণে মূল চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার দিকনির্দেশনা, আরব লীগ ও অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল হবে।



