বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সদস্যদের নেতৃত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিতদের মূল দাবি ছিল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, মবসন্ত্রাস, সংবাদপত্রে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলার বিরোধিতা। সমাবেশের মাধ্যমে তারা সরকারকে এই অপরাধগুলোতে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রেজা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “অবিলম্বে ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিসহ সকল রাজনৈতিক হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, তাদের বিচার এবং জাতীয় নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। কিন্তু এসব প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।” রেজা সরকারের নিরাপত্তা নীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মবসন্ত্রাসের সৃষ্টি করে হত্যাকাণ্ড, সংবাদপত্রে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলা চালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জয়নাল আবেদীন মুকুলও তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারাই মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী কাজ করে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।” মুকুলের মন্তব্যে মবসন্ত্রাসের কার্যক্রমকে দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমাবেশে আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা তাদের মতামত প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম সম্পাদক আলীমুর রেজা রানা প্রত্যেকেই মবসন্ত্রাসের উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজের সকল স্তরের সমর্থন প্রয়োজন, যাতে ন্যায়বিচার দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।
বিক্ষোভের সময় উপস্থিতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা একত্রে মবসন্ত্রাসের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। তারা দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং তা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ত্বরিত হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।
প্রতিবাদী দলগুলো উল্লেখ করেন, মবসন্ত্রাসের কার্যক্রম কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে, যা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিগুলোর ক্ষতি করছে। তারা সরকারকে আহ্বান করেন, মবসন্ত্রাসের গঠন ও তহবিলের মূল উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করতে।
এই বিক্ষোভের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট, কারণ নওগাঁ অঞ্চলে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের এই পদক্ষেপ সরকারকে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি করে তুলবে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ত্বরিত আইনি পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অধিকন্তু, সমাবেশের পরে স্থানীয় প্রশাসন থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যে, মবসন্ত্রাসের কার্যক্রমে যুক্ত কোনো গোষ্ঠী পুনরায় সহিংসতা না ঘটায় তা নিশ্চিত করতে। ভবিষ্যতে, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের এই ধরনের প্রতিবাদগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে আরও উন্মুক্ত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।



