বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এর আর্থিক অবস্থা সাম্প্রতিক স্পনসরশিপ পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে আয়ের হ্রাসের পরেও দৃঢ় রয়ে গেছে। এ বিষয়ে এপেক্স কাউন্সিলকে জমা দেওয়া নোটে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংস্থাটি নতুন স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করেছে।
ড্রিম১১, যা আগে বিসিসিআইয়ের প্রধান স্পনসর ছিল, নতুন আইনগত বিধানের প্রভাবে তাদের চুক্তি শেষ করেছে। একই সময়ে আইসিসি থেকে প্রাপ্ত শেয়ারও প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে, যা সামগ্রিক আয়কে প্রভাবিত করেছে। তবে এই দু’টি চ্যালেঞ্জের মুখে বিসিসিআই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘাটতি পূরণে সফল হয়েছে।
বিসিসিআই নতুন জার্সি স্পনসরশিপের জন্য অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই চুক্তি পূর্বের চুক্তির তুলনায় উচ্চতর মূল্যায়নে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুই বছরের জন্য কার্যকর হবে। অ্যাডিডাসের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব জার্সি ডিজাইন, সরবরাহ এবং বিপণনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিসিসিআইকে সমর্থন করবে।
অ্যাডিডাসের পাশাপাশি, বিসিসিআই আপোলো টায়ারসের সঙ্গে নতুন স্পনসরশিপ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তি টায়ারসের ব্র্যান্ডিং এবং বিভিন্ন ইভেন্টে সমর্থন নিশ্চিত করে, যা আর্থিক দিক থেকে সংস্থার আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। উভয় চুক্তি একসাথে বিসিসিআইকে পূর্বের ঘাটতি পূরণে সক্ষম করেছে।
বিসিসিআইয়ের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন স্পনসরশিপের মাধ্যমে অর্জিত আয় পূর্বের অনুমানকৃত ঘাটতি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করেছে। ফলে সংস্থার সামগ্রিক ব্যালেন্স শিটে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত হয়েছে।
বিসিসিআই এই আর্থিক সাফল্যকে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে দেখছে। নতুন স্পনসরশিপের তহবিল দিয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকায় ক্রিকেট প্রচার কর্মসূচি চালু করা হবে।
সংস্থার আর্থিক শক্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত চুক্তিগুলোর পুনর্বিবেচনা করার সুযোগও দিয়েছে। আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আয় হ্রাসের পরেও, বিসিসিআই নতুন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিসিসিআইয়ের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্পনসরশিপ চুক্তিগুলো দুই বছরের জন্য বৈধ এবং পরবর্তী সময়ে পুনর্নবীকরণ বা নতুন চুক্তি অনুসন্ধানের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
ড্রিম১১য়ের ত্যাগের পরেও, বিসিসিআই নতুন স্পনসরশিপের মাধ্যমে ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা এবং বাজারে উপস্থিতি বজায় রাখবে। অ্যাডিডাস এবং আপোলো টায়ারসের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ফলে বিসিসিআইয়ের লোগো এবং রঙ বিভিন্ন পণ্য ও বিজ্ঞাপন মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে।
বিসিসিআইয়ের আর্থিক নীতি অনুযায়ী, স্পনসরশিপ চুক্তিগুলো স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়নের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। নতুন চুক্তিগুলোতে উভয় পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কোনো বিরোধের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
এই আর্থিক সাফল্যকে কেন্দ্র করে বিসিসিআই আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন স্পনসরশিপের তহবিল দিয়ে স্টেডিয়াম উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের জন্য সুবিধা বাড়ানো হবে।
সারসংক্ষেপে, ড্রিম১১য়ের স্পনসরশিপ ত্যাগ এবং আইসিসি আয়ের হ্রাসের পরেও বিসিসিআই নতুন স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে আর্থিক ঘাটতি পূরণ করে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



