লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা সীমান্তে রাত ২ টার কাছাকাছি একটি অবৈধ পারাপার চেষ্টায় ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ সীমানা রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) আটক করেছে। ঘটনাটি দার্গাপুর বি.ও.পি. ক্যাম্পের গশত দল ১৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীনে ঘটেছে।
বিজিবি দলের সদস্যরা রাত্রিকালীন গশত চলাকালীন সন্দেহজনক চলাচল লক্ষ্য করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। দলটি দার্গাপুর ক্যাম্পের গশত দল থেকে গঠিত এবং লালমনিরহাটের ১৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের অংশ।
ধরা ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে প্রকাশিত হয়েছে: ২৫ বছর বয়সী বিস্বজিৎ কুমার দাশ, পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার শিব্বারী চেচাখাটা গ্রাম থেকে আসা। তার পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি দল তার সঙ্গে ৮২০ টাকা (বাংলাদেশি টাকা) এবং ৮০০ রুপি (ভারতীয় রুপি) পাশাপাশি একটি আধার কার্ডের ফটোকপি পেয়েছে। এই সামগ্রীগুলো তার অবৈধ পারাপারের প্রমাণ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিস্বজিৎ দাশ কৌয়ারচার এলাকায় সীমান্তের স্তম্ভ নং ৯২৫ এর সাব-স্তম্ভ ৫ এর কাছাকাছি প্রবেশের চেষ্টা করে। এই স্থানটি সীমান্তের দুর্বল অংশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে গশত দল দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।
দলটি তাকে তৎক্ষণাৎ আটক করে এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে। আটককৃত ব্যক্তিকে আদিতমারী থানা-তে হস্তান্তর করার পর অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের ১৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম জানান, সীমান্তে কোনো অননুমোদিত পারাপার রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর নীতি মেনে চলে। তিনি এ ধরনের ঘটনাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে মোকাবেলা করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অধিক তদন্তের জন্য থানা-র অফিসারগণ মামলাটি রেজিস্টার করে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশের আইনি শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার দায়িত্ব নির্ধারণে আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, সীমান্ত পারাপারের সময় তিনি কোনো বৈধ ভিসা বা পারমিট বহন করেননি। ফলে, তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ পারাপার রোধে গশত কার্যক্রম বাড়ানো হবে এবং সীমান্তের দুর্বল অংশে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘটনা দেশের দুই পাশে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করে অবৈধ প্রবেশকারীদের দ্রুত সনাক্ত ও আটক করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



