22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিস্বাধীনতা দিবসে শিশুর হাতে লাল-সবুজ পতাকা, জাতীয় গর্বের প্রতীক

স্বাধীনতা দিবসে শিশুর হাতে লাল-সবুজ পতাকা, জাতীয় গর্বের প্রতীক

ঢাকার এক ব্যস্ত রাস্তার পাশে বিক্রেতা স্টলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন চলাকালে একটি ছোট ছেলে লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা হাতে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার বাবা, যিনি স্টলে কিছু সামগ্রী কিনতে থেমে ছিলেন, ছেলেটিকে সতর্ক করে “সাবধানে” বলেছিলেন। শিশুটি পতাকার লাল বৃত্তটি নিজের বুকে আলতো করে চাপিয়ে, গর্বের সঙ্গে তা ধরে রেখেছিল।

পতাকার নকশা, সবুজ পটভূমিতে লাল বৃত্ত, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে চিহ্নিত করে এবং দেশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। স্বাধীনতা দিবসের উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন কোণে পতাকার বিক্রয়কারী স্টল দেখা যায়, যেখানে শিশুরা ও পরিবারগুলো উল্লাসের সঙ্গে পতাকায় হাত বেঁধে রাখে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য সরাসরি অভিজ্ঞতা নয়; তারা মূলত গল্প, স্মারক এবং সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা জানে। স্বাধীনতা দিবসের বার্ষিক অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শপথ ও বিজয় গাথা স্মরণ করিয়ে দেন, এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।

বছরের পর বছর ধরে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে সরকার বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরছে। স্কুল ও কলেজে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাঠক্রম বাধ্যতামূলক, এবং জাতীয় স্মারক স্থাপন, স্মরণসভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে স্মৃতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়।

তবে গবেষণা ও সমীক্ষা দেখায় যে, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সরাসরি সাক্ষী সংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহাসিক সচেতনতা কিছুটা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি সংস্থা সমন্বয়ে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি, মুক্তিযোদ্ধা বীরত্বের প্রশংসা এবং স্বাধীনতার মূল্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ চালু করেছে।

স্বাধীনতা দিবসের পারেড ও সমাবেশে জাতীয় পতাকা উঁচু করে ধরা হয়, এবং জনগণকে দেশের স্বাধিনতা রক্ষার জন্য দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট কাজের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র একদিনের উদযাপন নয়, বরং স্বাধীনতার অর্জনকে স্থায়ী রাখার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত উদযাপনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যকে পুনর্ব্যক্ত করে, এবং বর্তমান সরকারকে ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি অটল থাকতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্য ও সমৃদ্ধির জন্য সকলের সমন্বয় দাবি করেন।

স্বাধীনতা দিবসের এই দৃশ্যপটে শিশুর হাতের পতাকা, তার বাবা-সন্তানের সংলাপ এবং জনতার উল্লাস একত্রে দেশের গর্ব ও দায়িত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অধিকন্তু, সরকার স্বাধীনতা দিবসের পরবর্তী সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও মিডিয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নথি সংরক্ষণ, বীরদের সম্মাননা এবং জাতীয় গর্বের বিষয়গুলোকে আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা করেছে। এই নীতি অনুসারে, জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান ও স্বাধীনতার সুরক্ষা সর্বদা জনগণের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে রয়ে যাবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments