28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজাইমা রহমানের ফেসবুক পোস্টে খালেদা জিয়ার স্মৃতি ও রাজনৈতিক বার্তা

জাইমা রহমানের ফেসবুক পোস্টে খালেদা জিয়ার স্মৃতি ও রাজনৈতিক বার্তা

বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিকাল প্রায় ১০:৩০ টায় ফেসবুকে একটি আবেগপূর্ণ পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার শৈশবের স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করেন। পোস্টটি বিএনপির অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, মিডিয়া সেল পেজ এবং তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের পেজেও শেয়ার করা হয়।

জাইমা জানান, যখন তিনি একাদশ বছর বয়সী ছিলেন, তখন তার স্কুলের ফুটবল দল একটি টুর্নামেন্ট জিতেছিল এবং তিনি স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। তার মা তাকে সরাসরি দাদীর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে তিনি গর্বিত দাদীর সামনে তার বিজয়ের গল্প ও পদক দেখিয়ে বলেছিলেন। দাদী খালেদা জিয়া মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং গর্বে মুখর হয়ে সেই গল্পটি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।

জাইমা জোর দিয়ে বলেন, দাদীর ভূমিকা শুধুমাত্র দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, পরিবারের মমতাময়ী অভিভাবক হিসেবে তার স্মৃতি তার জন্য সবচেয়ে প্রিয়। তিনি উল্লেখ করেন, দাদী সব সময় পরিবারের খেয়াল রাখতেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহস ও উজ্জীবন দিতেন। এই ছোটখাটো অভিজ্ঞতাগুলো থেকে তিনি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন—নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

বহিরাগত ১৭ বছর কাটানোর অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। জাইমা বলেন, লন্ডনে বসবাসের সময় তিনি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ অর্জন করেছেন, তবে তার হৃদয় ও মন সবসময় বাংলাদেশেই রয়ে গেছে। তিনি যুক্তি দেন, দেশের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও শিকড়ই মানুষকে গঠন করে এবং সেগুলো কখনো ভুলে যাওয়া যায় না।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান প্রদান করেছে, যা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে বসবাসের সময়ও তিনি দেশের প্রতি তার দায়িত্ববোধ বজায় রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান।

বিএনপি নেতারা পোস্টটি দাদীর প্রতি সম্মান ও পারিবারিক বন্ধনের প্রকাশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, আওয়ামী লীগ নেতারা এই ধরনের প্রকাশকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, ব্যক্তিগত স্মৃতির ব্যবহার করে রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত হওয়া ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, এই পোস্টটি নির্বাচনী সময়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল হতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, এমন ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগপূর্ণ প্রকাশনা পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং সমর্থকদের মধ্যে সংহতি বাড়াতে সহায়তা করে।

বিএনপি এই পোস্টের মাধ্যমে দাদীর মানবিক দিককে তুলে ধরে, যা সাধারণ জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। তবে সমালোচকরা ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক পার্টিগুলোর উচিত নীতি ও কর্মদক্ষতার উপর বেশি জোর দেওয়া, ব্যক্তিগত স্মৃতির চেয়ে।

পোস্টটি শেয়ার করা পেজগুলোতে দ্রুতই লক্ষাধিক লাইক ও মন্তব্য পেয়েছে, যেখানে সমর্থকরা দাদীর প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন এবং জাইমা রহমানের লেখাকে প্রশংসা করেছেন। বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্যকারীরা পোস্টকে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই পোস্টের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, বিএনপি দাদীর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইভেন্ট ও সমাবেশের পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, আওয়ামী লীগও দাদীর সময়কালের নীতি ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে সমালোচনামূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে।

সামগ্রিকভাবে, জাইমা রহমানের ফেসবুক পোস্টটি পারিবারিক স্মৃতি, রাজনৈতিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments