লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট না করে একা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে দলীয় সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ আজ মগবাজারে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। সমঝোতা না হওয়ায় বিএনপি সঙ্গে কোনো চুক্তি গড়ে উঠেনি, ফলে দলটি সর্বসম্মতিক্রমে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অলি আহমেদ বলেন, “এলডিপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নির্বাচন করবে। দলের যেসব প্রার্থী নির্বাচন করতে ইচ্ছুক, তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। এলডিপি এককভাবে মাঠে থেকে নির্বাচন করবে।” তিনি জোর দিয়ে বললেন, দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময় দলটি প্রায় আট থেকে নয়টি আসন ভাগাভাগি করার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি আসনই প্রস্তাব করা হয়। অলি আহমেদ উল্লেখ করেন, “যখন বিএনপির বিপদের দিন ছিল, তখন সবাই আমার বাড়িতে দৌড়ে আসত, এখন কোনো বিএনপি নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়নি।” তিনি বলেন, আলোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি এবং তাই দলটির সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
দলের মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে প্রস্তাব রাখেন যে, “এলডিপি এককভাবে নির্বাচন করবে, কোনো জোটের সঙ্গে থাকবে না।” এরপর সব সদস্য একমত হয়ে এই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন। অলি আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এলডিপিকে বিলুপ্ত করতে চাই না; দলটি সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গড়ে উঠেছে এবং সেই লক্ষ্যেই অটল থাকবে।”
অলি আহমেদ আরও জানান, তিনি নিজে তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছে দলের মনোনয়নের তালিকা পাঠিয়েছেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হওয়ায় আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
এদিকে, দলটির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো ফল না পাওয়ায় এবং এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে এলডিপি ভবিষ্যতে কীভাবে তার ভোটভিত্তি বজায় রাখবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে। দলটি এখন তার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে প্রস্তুত, একই সঙ্গে ভোটারদের কাছে তার মূল নীতি—সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার—উল্লেখ করে সমর্থন আহ্বান করবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট আরও জটিল হয়ে উঠবে। জোটের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় প্রতিটি দলকে নিজের ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে এবং ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর কৌশল গড়ে তুলতে হবে। এলডিপি একা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ফলে তার ভোটের ভাগ কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



