বিএনপি চেয়ারপার্সন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২১ ডিসেম্বর, রবিবার বিকেলে ফেনি-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে ষষ্ঠবারের মতো পার্লামেন্টের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেন। তিনি ফেনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কাজটি বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরশুরাম পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র আবু তালেবের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তালেবের মতে, এই পদক্ষেপটি ফেনি-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রচারাভিযানের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ভোটারদের কাছে দলের প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে।
খালেদা জিয়া এই আসন থেকে পাঁচবার (১৯৯১, ১৯৯৬ দু’বার, ২০০১ ও ২০০৮) নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেনি-১ আসনটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যক্তিগত জয়ী আসন হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জিয়ার প্রার্থী ঘোষণায় উল্লসিত হয়ে মন্তব্য করেন। জেলা সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, “খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত মজলুম দেশনেত্রী এবং ফেনি-১ আসনে তার পুনরায় প্রার্থী হওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিভাজনকে পেছনে ফেলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের শীষকে বিজয়ী করতে কাজ করব।”
আবু তালেবের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “ফেনি-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক, এবং আমরা আশাবাদী যে জনগণ আবারও তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে।”
খালেদা জিয়ার জন্মস্থান শ্রীপুর গ্রাম, ফুলগাজী উপজেলায়, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফেনি জেলার মধ্যে বিএনপি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়, এবং জিয়ার উপস্থিতি স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
এছাড়া, ফেনি-১ এর পাশাপাশি বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে। এই দুই আসনে একই সময়ে প্রার্থিতা করার সিদ্ধান্তটি জিয়ার রাজনৈতিক প্রভাবকে বিস্তৃত করার কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করা যায়।
প্রতিপক্ষের দলগুলোও তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত। যদিও নির্দিষ্ট নাম প্রকাশিত হয়নি, তবে উল্লেখযোগ্য যে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য স্থানীয় গোষ্ঠীও আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফেনি জেলা রিটার্নিং অফিসের কর্মীরা সকাল ২টায় মনোনয়নপত্রের আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এই সময়ে নির্বাচনী কমিটির কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রার্থীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
বিএনপি দলীয় কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারপত্র বিতরণ এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কাজ দ্রুত শুরু করেছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা সমন্বিতভাবে ভোটার সমাবেশ, দরবারি ও গ্রামসভা আয়োজনের মাধ্যমে সমর্থন জোগাড়ের পরিকল্পনা করছেন।
খালেদা জিয়ার প্রার্থী ঘোষণার পর, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনগুলোও তার নেতৃত্বে ভোটারদের সমন্বয় করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, জিয়ার অভিজ্ঞতা ও নীতি বাস্তবায়ন ক্ষমতা ফেনি-১ আসনে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নির্বাচনের পূর্বে ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটার সনদ সংগ্রহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে রয়েছে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যাতে সকল প্রার্থী সমান সুযোগ পায়।
সারসংক্ষেপে, খালেদা জিয়া ফেনি-১ আসনে ষষ্ঠবারের মতো প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা অব্যাহত রাখছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, এবং স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে দলীয় সমর্থন দৃঢ় হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



