বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে ২৪ ডিসেম্বর রবিবার বিকেলে ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তরিক রহমান দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামনের দিনগুলো সহজ হবে না এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি জুলাই মাসে শহীদদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে এবং অনলাইন মাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়। তরিক রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, কিছু গোষ্ঠী দেশের ভিতরে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাই সকল নাগরিককে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
তিনি শহীদ ওসমান হাদির কথা উল্লেখ করে বলেন, হাদি গণতন্ত্রের পথে অটল ছিলেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন। হাদির আদর্শকে সম্মান করার জন্য দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এটাই মূল লক্ষ্য।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাজের কথা স্মরণ করে তরিক রহমান উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান দেশের ধ্বংসের কিনারায় থেকে বের করে এনে স্বনির্ভরতা ও উন্নয়নের পথে চালিত করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে রক্ষা করে ধীরে ধীরে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তরিক রহমান দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জের মুখে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তার অগ্রাধিকার।
নারী ক্ষমতায়নের কথাও তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন। নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে, এটাই তার দৃষ্টিভঙ্গি। বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের কিনারায় থেকে বের করে আনতে হবে, তিনি জোর দেন।
গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রাখেন এমন সকলের জন্য তিনি ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একতা বজায় রাখা শুধুমাত্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের নয়, অন্য সব দলের নেতা-কর্মীদের জন্যও অপরিহার্য। একসাথে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতি পাবে।
অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বিভিন্ন নেতার বক্তব্য শোনা যায়। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ই.কে.এম. মাহবুবর রহমান, হেলালুজ্জামান তালুকদার এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামও অংশ নেন।
এই বক্তব্যগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। তরিক রহমানের সতর্কতা এবং ঐক্যের আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিক নির্দেশ করে, যেখানে বিভিন্ন দলকে একসাথে কাজ করে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
বিএনপির এই প্রকাশনা পূর্বের সতর্কতা ও সমালোচনার ধারাবাহিকতা, যেখানে দলটি দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষার জন্য অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



