বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কোর কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, সরকার তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উপদেষ্টা চৌধুরী উল্লেখ করেন, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগের বিষয় নেই। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি বড়দিনের উদযাপনের সময় আতশবাজি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে বিএনপির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে কাজ করছেন, দীর্ঘ সময়ের পর দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার ফিরে আসা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন গতিবিধি আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দিক থেকে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটি, যা দেশের নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে, গতকাল সন্ধ্যায় একত্রিত হয়। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা অবস্থা, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। এই আলোচনার পর উপদেষ্টা চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি চিহ্নিত হলে তা দ্রুত সংশোধন করা হবে। এছাড়া, নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বড়দিনের সময় আতশবাজি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি শুধুমাত্র তারেক রহমানের নিরাপত্তা নয়, পুরো দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তারা বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি ঘটলে তা দ্রুত সংশোধনের জন্য তদারকি করা হবে।
সরকারের এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের দৃঢ়তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক সতর্কতা প্রকাশ করেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ঘোষণার পাশাপাশি সরকার আতশবাজি ব্যবহার সীমিত করার মাধ্যমে জননিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি বড়দিনের সময় বাড়তি জনসমাগম এবং আতশবাজি সম্পর্কিত দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পর, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগকে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তা দলগুলো নির্দিষ্ট সময়ে তারেক রহমানের গমনপথ এবং অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে।
অবশেষে, সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে। উপদেষ্টা চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কোনো ধাপ বাদ না দিয়ে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে এবং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



