বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (BSMA) এর ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা শনিবার, বানানী ক্লাব, ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্থার নতুন সভাপতি ও নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য BSMA-র সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সময়ে সুমন চৌধুরীকে সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনীত করা হয়েছে।
নির্বাহী পরিষদের শীর্ষ পর্যায়ে, মুহাম্মদ শাহিদুল্লাহকে সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। আমের আলি হোসেন, মো. আবদুস সালাম এবং মারুফ মোহসিনকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যৌথ সেক্রেটারির দায়িত্বে ফুরকান মোহাম্মদ এন হোসেন এবং মো. জাকারিয়া (যাকি)কে নির্বাচিত করা হয়েছে। আর্থিক বিষয়ের দায়িত্বে মো. সাইফুর রহমান খোকনকে ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ের দায়িত্বে সুমিত্র কুমার মুতসুদ্দিকে আন্তর্জাতিক বিষয় ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শারিয়ার জাহানকে অর্গানাইজিং ডিরেক্টর এবং মো. সারওয়ার আলমকে পাবলিসিটি ডিরেক্টর হিসেবে বাছাই করা হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ, মো. ইসরাইল, আশরাফ সিদ্দিকী, সায়ান সিরাজ এবং মো. হাসান মিয়াকে পরিচালক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।
BSMA-র নতুন নেতৃত্বের দল শিল্পের কাঠামো শক্তিশালী করা, টেকসই বৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং আসন্ন বছরগুলোতে শিল্পের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং পরিবেশগত মানদণ্ড উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নতুন পরিষদের গঠন স্টিল সেক্টরের নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াবে। এটি দেশীয় উৎপাদনকারীদের জন্য ঋণ সুবিধা ও কর প্রণোদনা সহজতর করতে পারে, ফলে বাজারে সরবরাহের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তবে, কাঁচামালের মূল্য ওঠানামা, বৈদ্যুতিক শক্তির খরচ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এখনও শিল্পের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। নতুন পরিষদ এই বিষয়গুলো মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী কৌশল তৈরি করে, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, BSMA-র নেতৃত্ব পরিবর্তন স্টিল শিল্পের উন্নয়ন পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থার পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।



