28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান পদত্যাগের পরে শৈলকুপা‑১ আসনে নির্বাচনী ঘোষণা দিলেন

অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান পদত্যাগের পরে শৈলকুপা‑১ আসনে নির্বাচনী ঘোষণা দিলেন

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ২০ ডিসেম্বর শনিবার গাড়াগঞ্জ বাজারে অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া মাহফিলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তার পদত্যাগের পরবর্তী পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি আগামী ২৮ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ‑১ (শৈলকুপা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা জানান। এই ঘোষণার পেছনে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও সন্ত্রাসমুক্ত শৈলকুপা গড়ার লক্ষ্যকে উল্লেখ করেন।

আসাদুজ্জামান ২৮ ডিসেম্বরের আগে নিজের পদ থেকে অব্যাহতি নেবে এবং তৎক্ষণাতই নির্বাচনী মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেবে। তিনি বলেন, “আগামী ২৮ ডিসেম্বর পদ (অ্যাটর্নি জেনারেল) থেকে অব্যাহতি নিয়ে আপনাদের সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেব।” তার এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে তিনি দেশের সেবা ও শৈলকুপার মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।

মাহফিলটি শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি আয়োজন করে, যেখানে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা শৈলকুপার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। এই পরিবেশে আসাদুজ্জামান তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।

আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, “আমি ধানের শীষে ভোট করবো। বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সেরকমই জানানো হয়েছে।” তিনি ভোটের মাঠে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, “আমি ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবো।” তার এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

তিনি স্পষ্টভাবে ভোট ডাকাতি বা ভোট চুরির কোনো প্রকারের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না বলে জানান। “আমি ভোট ডাকাতের এমপি হতে চাই না, ভোট চুরির এমপি হতে চাই না,” তিনি বলেন এবং যোগ করেন, “আমি দুর্নীতি বা আলিশান বাড়ি করার জন্য এমপি হতে চাইনি।” তার বক্তব্যে সমাজের পরিবর্তনের অঙ্গীকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা স্পষ্ট।

আসাদুজ্জামান শৈলকুপার উন্নয়নের জন্য নিজের স্বপ্নও ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “আমার শৈলকুপার প্রতিটি ঘরে ঘরে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস অফিসার তৈরি হবে। ভালো ব্যবসায়ী, সৎ মানুষ তৈরি হবে।” তার মতে, ভবিষ্যতে শৈলকুপা থেকে একজন স্বনামধন্য অ্যাটর্নি জেনারেলও উত্থিত হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার কাজ করবে।

বিগত ১৭ বছর পর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারবে, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। “আপনারা এতদিন ভোট দিতে পারেননি। ভোট আপনার সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার কেড়ে রাখা হয়েছিল,” তিনি উল্লেখ করেন। তিনি শৈলকুপা উপজেলার শিক্ষক প্রতিনিধিদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, “প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে আপনি শুধু নিশ্চিত করবেন প্রতিটা ভোটার যাতে তার ভোট প্রয়োগ করতে পারেন।”

অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্যে শৈলকুপার সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে ধানের শীষের মিছিলে, উন্নয়নের মিছিলে, গণতন্ত্রের মিছিলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মিছিলে এবং একটি স্বপ্নের শৈলকুপার মিছিলে।” তার এই পরিকল্পনা শৈলকুপার বিভিন্ন স্তরে সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত।

বিএনপি এই মাহফিলের আয়োজনের সময় হাদির রুহের মাগফেরাত এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করেন। খালেদা জিয়া, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসন এবং পূর্বের প্রধানমন্ত্রী, তার সুস্থতা কামনা করা হয়। এই দিকটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও পারস্পরিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী ঘোষণা শৈলকুপা-১ আসনের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে। তিনি জাতীয় সংসদে প্রবেশের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নকে কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখছেন। তার প্রস্তাবিত নীতি ও কর্মসূচি ভোটারদের মধ্যে কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়নি, তবে শৈলকুপা উপজেলায় বিএনপি ইতিমধ্যে তার সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে, আসাদুজ্জামানের প্রোফাইল ও অভিজ্ঞতা তাকে ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় প্রার্থী করে তুলতে পারে।

অবশেষে, আসাদুজ্জামান তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি শৈলকুপার প্রতিটি ঘরে উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পেশাগত সুযোগের স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, “আমি আপনার পাশে থাকবো, দেখা হবে রাজপথে, কথা হবে উন্নয়নের মিছিলে।” তার এই প্রতিশ্রুতি শৈলকুপা জনগণের কাছে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় শৈলকুপা-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হতে পারে। আসাদুজ্জামানের প্রস্তাবিত নীতি ও তার স্বচ্ছতা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফল শৈলকুপা অঞ্চলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।

শৈলকুপা-১ আসনের ভোটারদের জন্য আসাদুজ্জামানের ঘোষণার অর্থ হল একটি নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের উন্মোচন, যেখানে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার এই পদক্ষেপ দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা সময়ই বলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments