ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ২৪ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ও তার আশেপাশের এলাকায় সব ধরনের ড্রোন উড়ানো বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে। এই পদক্ষেপটি জনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ড্রোন উড়ানো নিষিদ্ধ এবং কোনো অনুমোদন ছাড়া ড্রোন চালু করা আইনি দায়ের কারণ হবে। বিজ্ঞপ্তিটি মিডিয়া ও জনসাধারণের কাছে প্রকাশের পর থেকে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং‑III/৭৬) এর ধারা ২৮ অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ধারা ২৮ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা ডিএমপির আছে, এবং এই ক্ষমতার আওতায় ড্রোন উড়ানো বন্ধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় সব ধরণের ড্রোন, তা হোক বাণিজ্যিক, শৌখিন বা গবেষণামূলক, উড্ডয়ন করা নিষিদ্ধ। হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো ড্রোন উড়ালে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
ডিএমপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, অনুমোদনহীন ড্রোন উড়ানোর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রোন জব্দ, চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের এবং জরিমানা আরোপ। এই পদক্ষেপগুলো ড্রোনের অপব্যবহার রোধে কঠোর সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।
ড্রোনের অননুমোদিত উড়ানকে জনসাধারণের নিরাপত্তা ও হাসপাতালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে রোগীর গোপনীয়তা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের নিরাপত্তা রক্ষা করা জরুরি। তাই ড্রোনের সম্ভাব্য নজরদারি বা হস্তক্ষেপ রোধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ডিএমপি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নির্দেশনা পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে, তবে তা পর্যন্ত ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
ডিএমপি কর্তৃপক্ষ ড্রোন উড়ানোর কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো লঙ্ঘন সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে। শহরের বিভিন্ন নজরদারি ক্যামেরা ও সিগন্যাল ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে ড্রোনের উপস্থিতি সনাক্ত করা হবে।
যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে, তবে তারা সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। ডিএমপি উল্লেখ করেছে যে, অপরাধের গুরত্ব অনুসারে যথাযথ শাস্তি নির্ধারিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা।
হাসপাতাল পরিচালনা দল ডিএমপির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, ড্রোনের অননুমোদিত উড়ান রোগীর গোপনীয়তা ও চিকিৎসা পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদী।
ডিএমপি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে কঠোর নীতি অনুসরণ করবে। ড্রোন উড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রাপ্তি ও নিয়ম মেনে চলা সকলের জন্য অপরিহার্য, যাতে কোনো আইনি জটিলতা না হয়।



