মঙ্গলবার, অর্থ মন্ত্রণালয় চিফ অ্যাডভাইজার মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমান আর্থিক বছরের ঘাটতি জিডিপির ৩.৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, যা পূর্বের লক্ষ্য থেকে উল্লেখযোগ্য হ্রাস।
বাজেটের মূল চালিকাশক্তি হল রাজস্ব সংগ্রহে আক্রমণাত্মক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং উন্নয়ন ব্যয়ের হ্রাস। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজস্ব সংগ্রহ প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) মূল বরাদ্দের তুলনায় ১৩ শতাংশ কমে যাবে।
এই সংশোধিত বাজেটটি পরামর্শক পরিষদের সামনে এই সপ্তাহে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদনের পর সরকার তা প্রকাশ করবে। সাধারণত নতুন আর্থিক বছরের বাজেট এবং চলমান বছরের সংশোধিত বাজেট জুন মাসে ঘোষণা করা হয়; তবে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য interim সরকার এইবার আগে অনুমোদন চাচ্ছে।
সরকারের সাধারণ নীতি হল ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা, যদিও বাস্তবায়নের পর ঘাটতি প্রায়ই আরও কমে যায়। পূর্বের আওয়ামী লীগ শাসনের শেষ বছরগুলোতে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি ছিল, ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৩ জানুয়ারি ঋণ প্রোগ্রাম শুরু করার সময় ঘাটতি সীমা নির্ধারণ করে।
interim সরকারের প্রথম বাজেটে বর্তমান আর্থিক বছর ২০২৫-২৬ এর জন্য ঘাটতি লক্ষ্য ৩.৬ শতাংশ নির্ধারিত হয়। পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে বাস্তব ঘাটতি একই ৩.৬ শতাংশে শেষ হয়, যা মূলত উন্নয়ন ব্যয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী না হওয়ার ফলে ঘটেছিল।
সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে ঘাটতি আরও কমিয়ে টাকার পরিমাণে ২৬,০০০ কোটি টাকা হ্রাস করে মোট ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এই হ্রাসের মূল কারণ হল রাজস্বের তীব্র বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কাটছাঁট।
বাজেটের আর্থিক কাঠামোতে পরিবর্তনও স্পষ্ট। দেশীয় ঋণ টাকার পরিমাণ টাকার ১.২৫ লাখ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১.৩৯ লাখ কোটি করা হয়েছে, যেখানে বৈদেশিক তহবিলের ব্যবহার টাকার ১.০১ লাখ কোটি থেকে কমিয়ে ৬১,০০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, কর সংগ্রহ, শুল্ক এবং অন্যান্য আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো অর্থনীতির সামগ্রিক গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজেট সংশোধনের ফলে রাজনৈতিক পরিসরে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে আর্থিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, বিশেষত উন্নয়ন ব্যয়ের হ্রাসের প্রভাব সম্পর্কে। তবে সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, ঘাটতি হ্রাস এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
আসন্ন ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এই বাজেটের সময়মত অনুমোদন সরকারকে আর্থিক দিক থেকে স্থিতিশীলতা প্রদান করবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, পরামর্শক পরিষদের অনুমোদনের পর সরকার সংশোধিত বাজেটের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে আর্থিক বছরের শেষ পর্যন্ত ঘাটতি লক্ষ্য পূরণে সরকার কতটা সক্ষম হবে তা দেখা যাবে।
সামগ্রিকভাবে, সংশোধিত বাজেটের মূল লক্ষ্য হল ঘাটতি হ্রাস, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সমন্বয়, যা দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং নির্বাচনী সময়ের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।



