ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির পর দেশের নির্বাচনের আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষা রয়েছে। জেলেনস্কি মায়ামিতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় নতুন ২০‑দফা পরিকল্পনার বিশদও উপস্থাপন করেন।
ইউক্রেনের নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের মূল লক্ষ্য হল চুক্তি বাস্তবায়নের পর রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দেশীয় শাসনব্যবস্থার বৈধতা বাড়ানো হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার চূড়ান্ত অবস্থান জানার পরই নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
মস্কোতে একই সময়ে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ড্রোনের আক্রমণের ফলে টুলা অঞ্চলের বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রাতের সময় ড্রোনের আঘাতের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিবারণ করেছে। এই ঘটনার ফলে মস্কোর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়েছেন, মস্কোকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে তিনটি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেগুলো সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ যেখানে পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা দল পাঠানো হয়েছে, তবে তৎকালীন কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি রিপোর্ট করা যায়নি।
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মতে, মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরের মধ্যে দুটিতে সীমিত সেবা চালু রয়েছে। অবশিষ্ট দুইটি বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য অতিরিক্ত অসুবিধা সৃষ্টি করছে। এই সীমাবদ্ধতা ড্রোন হামলার পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
ইউক্রেনের নির্বাচনের ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার ইঙ্গিত প্রকাশ করেছে। জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়কে কূটনৈতিক সমর্থনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন, যা রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পরবর্তী ধাপকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে ড্রোন হামলা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন উল্লেখ করেন, শহরের আকাশ রক্ষা করতে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ রোধে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
ড্রোন আক্রমণের ফলে টুলা অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
ইউক্রেনের নির্বাচনের পরিকল্পনা এবং রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা উভয়ই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, নির্বাচনের ফলাফল রাশিয়া-ইউক্রেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধিকন্তু, রাশিয়ার বিমান চলাচল সংস্থার সীমিত সেবা চালু করা আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। ভ্রমণকারীরা বিকল্প রুট ও সময়সূচি বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে, যা বাণিজ্যিক ও পর্যটন খাতে প্রভাব ফেলবে।
যদিও মস্কোর মেয়র ড্রোন ধ্বংসের পর কোনো তাত্ক্ষণিক ক্ষতি জানাতে পারেননি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ রোধে উচ্চতর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সারসংক্ষেপে, ইউক্রেনের শান্তি চুক্তি পরবর্তী নির্বাচন পরিকল্পনা এবং রাশিয়ার মস্কোতে ড্রোন হামলা উভয়ই আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে। উভয় দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিক্রিয়া আগামী সপ্তাহে গতি পাবে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



