বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন। তিনি উপস্থিত জনগণের সামনে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।
সভায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে তিনি সরাইল‑আশুগঞ্জ থেকে নির্বাচনে লড়াই করবেন, তা মার্কা (মার্কা) যাই হোক না কেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে যুক্ত করে দেখাতে চান।
ফারহানা সরাইল ও আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলা গড়ে তুলতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অগ্রগতি আনতে তিনি পরিকল্পনা করেছেন। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি সংসদে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন।
তিনি বলেন, তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহে এই এলাকায় আসেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখেন। তার মতে, সরাইল ও আশুগঞ্জের জন্য তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন অপরিহার্য।
ফারহানা উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ আসনে এখনো মনোনয়ন নিয়ে উৎসবের আয়োজন চলছে, তবে সরাইল‑আশুগঞ্জের মানুষ এখনও তাদের এমপি প্রার্থীকে চেনেন না, যা তিনি দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি করেন।
তিনি নিজের দলীয় ভূমিকা ও অতীতের কাজের কথা সংক্ষেপে তুলে ধরেন, তবে বিশদে না গিয়ে বলেন, গত সতেরো বছর ধরে তিনি রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন এবং তার বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণই তার মূল প্রেরণা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে ফারহানা বলেন, গত পনেরো বছর ধরে বাংলাদেশ প্রকৃতভাবে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। তিনি সরকারের ২০২৬ সালে ‘সেরা নির্বাচন’ দেবার দাবিকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের বিশ্বাস দরকার বলে জোর দেন।
নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন, সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়ায় আনতে এবং ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। তিনি ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচনী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি ইতিমধ্যে দুই দফায় ২৭২ আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জন্য এখনো কোনো নাম প্রকাশ করা হয়নি। রুমিন ফারহানা গত কয়েক মাস ধরে এই আসনে গণসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন, যা তার নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রুমিনের এই প্রকাশনা ও মাঠে সক্রিয়তা সরাইল‑আশুগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে তার পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তিনি নির্বাচনে কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।



