জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আজ একটি নোটিশ জারি করে জানিয়েছে যে, খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই হ্রাসের লক্ষ্য হল রমজান মাসে ভোক্তাদের জন্য দাম স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। সংশোধিত শুল্কের প্রযোজ্য সময়কাল ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
শুল্কের পাশাপাশি, খেজুর এবং অন্যান্য ফলের উপর আরোপিত অগ্রিম আয়করও ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই কর হ্রাসের মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের মোট খরচে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। NBR এই পদক্ষেপগুলোকে রমজান মাসের উচ্চ চাহিদা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানিকৃত খেজুরের মূল্যের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। শুল্কের হার কমে গেলে আমদানি ব্যবসায়ীরা কম খরচে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে, যা বিক্রয়মূল্য কমিয়ে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে। বিশেষ করে রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে, তাই এই নীতি বাজারে মূল্যস্ফীতি রোধে সহায়ক হতে পারে।
অগ্রিম আয়কর হ্রাসের ফলে আমদানিকৃত ফলের মোট করভিত্তি কমবে। ফলের ব্যবসায়ীরা কম কর পরিশোধের ফলে লাভের মার্জিন বাড়বে, যা তাদেরকে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণে সহায়তা করবে। ফলে, রমজান সময়ে ফলের বিক্রয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প তৈরি হবে।
শুল্ক ও কর হ্রাসের আর্থিক প্রভাব সরকারী রাজস্বে হ্রাস ঘটাতে পারে, তবে NBR উল্লেখ করেছে যে, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফলে মোট বিক্রয় পরিমাণে বৃদ্ধি আশা করা যায়। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার সম্ভবত অন্যান্য পণ্যশ্রেণিতে কর নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক হ্রাসের ফলে আমদানিকৃত খেজুরের সরবরাহ শৃঙ্খল সহজ হবে। শুল্কের বোঝা কমে গেলে আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং লজিস্টিক খরচও কমে যাবে। ফলে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো রমজান পূর্বে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তুলতে পারবে।
তবে, শুল্ক ও কর হ্রাসের ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি থাকতে পারে। যদি চাহিদা প্রত্যাশিত মাত্রার নিচে থাকে, তবে দাম সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, যা বিক্রেতাদের মুনাফা হ্রাসের দিকে ধাবিত হতে পারে। তাই, আমদানিকর্তা ও বিক্রেতাদেরকে চাহিদা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে মজুদ পরিকল্পনা করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদে, শুল্ক হ্রাসের নীতি রমজান পরেও বজায় থাকলে, খেজুরের বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হতে পারে। তবে, নীতি ৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্তির পর পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে, যা ভবিষ্যৎ শুল্ক নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই নীতির ফলে স্থানীয় উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদেরও প্রভাবিত হতে পারে। শুল্ক হ্রাসের ফলে বিদেশি পণ্যের দাম কমে গেলে, দেশীয় উৎপাদনকারীদের প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে, যদি সরকার স্থানীয় উৎপাদনকে সমর্থন করার জন্য অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করে, তবে বাজারে সমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, শুল্ক ও কর হ্রাসের মাধ্যমে সরকার রমজান মাসে ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খেজুর এবং অন্যান্য ফল সরবরাহের লক্ষ্য অর্জনে অগ্রসর হয়েছে। এই পদক্ষেপের সফলতা নির্ভর করবে বাজারের চাহিদা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং নীতির সময়মত পুনর্মূল্যায়নের উপর।
ভবিষ্যতে, NBR শুল্ক নীতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে পারে। রমজান শেষে যদি মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, তবে শুল্ক হ্রাসের মডেলটি অন্যান্য মৌসুমী পণ্যের জন্যও বিবেচনা করা হতে পারে। এভাবে, সরকারী নীতি ও বাজারের চাহিদার সমন্বয় দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।



