সরকার মেট্রো রেল সেবার উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভাড়া সাশ্রয়ী থাকে এবং গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ে।
এই অব্যাহতি মূলত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল; নতুন সময়সীমা দিয়ে প্রায় এক বছর ও ছয় মাসের অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করে জানায় যে, এই সম্প্রসারণের অনুমোদন ২৩ ডিসেম্বর গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
এনবিআর উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপটি জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে, কারণ মেট্রো রেল পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্যাট অব্যাহতি রাইডারের ভাড়া স্থিতিশীল রাখে, ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচে চাপ কমে এবং সম্ভাব্য গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
মেট্রো অপারেটরদের জন্য করমুক্তি নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, অপারেশনাল ব্যয় কমে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি হয়।
বাজারে এই খবরটি পরিবহন খাতের শেয়ারহোল্ডারদের আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে; রাইডার বৃদ্ধির প্রত্যাশা কোম্পানির আর্থিক ফলাফলকে শক্তিশালী করতে পারে।
সরকারের দৃষ্টিতে, যদিও ভ্যাট আয় থেকে স্বল্পমেয়াদে হ্রাস হবে, তবে ট্রাফিক জ্যাম কমে, বায়ু দূষণ হ্রাস পাবে এবং শহরের উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা আশা করা হচ্ছে।
তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া কাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে; নতুবা অব্যাহতি শেষ হলে টিকিটের দাম বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
রাজনৈতিক দিক থেকে সাম্প্রতিক সমঝোতা অনুযায়ী, সাতটি নির্বাচনী আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না; এই আসনগুলোতে শরিক দলের নেতারা নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মেট্রো রেলের ভ্যাট অব্যাহতি চালু রাখা দেশের টেকসই নগর পরিবহন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে রাইডার সংখ্যা ও আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



