27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরংপুরে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার, কিছু আসনে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে

রংপুরে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার, কিছু আসনে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে

রংপুর জেলার ছয়টি পার্লামেন্টারি আসনের অধিকাংশে বিএনপি প্রার্থীরা দলীয় সমন্বয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, তবে রংপুর‑২ ও রংপুর‑৩ আসনে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত নেতারা শোভাযাত্রা, মিছিল এবং সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, কিছু এলাকায় প্রতিবাদও দেখা গেছে।

দলীয় নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে, রংপুর বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু উল্লেখ করেছেন, “যে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদেরই সমর্থনে সবাই কাজ করছে। পরিবর্তন হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সব নেতাকর্মী একসঙ্গে কাজ করবে।” এই বক্তব্যের ভিত্তিতে দলীয় কর্মীরা ৩১ ধাপের বাস্তবায়ন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের জন্য শুভকামনা এবং ধানের শীষের জনসমর্থন বাড়ানোর উদ্যোগে যুক্ত রয়েছেন।

গংগাচড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত একটি আসনে, জেলা বিএনপি সদস্য এবং তিনবার নির্বাচিত আলম বিদিতের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকারম হোসেন সুজনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে। স্থানীয় নেতারা সুজনের পক্ষে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন এবং কোনো দলীয় বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। সুজন জানান, “দল আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে, তাই আমি দলের সকল সদস্যের সঙ্গে কাজ করছি। প্রচার কার্যক্রমে কোনো বাধা নেই এবং ভোটাররা আমাকে সংসদে পাঠাবে বলে আশা করছি।” তার এই মন্তব্য থেকে দেখা যায়, নির্বাচনী প্রচার চালাতে তিনি সম্পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন।

বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত আরেকটি আসনে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া গেছে মোহাম্মদ আলী সরকারের হাতে। মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় বকুল সরকার, কমল লোহানী, আজিজুল হক এবং শাহীদুল মানিক (চেয়ারম্যান) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর বঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্ন সময়ে উপজেলায় সড়ক অবরোধ, প্রতিবাদ এবং সমাবেশের মাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদ আলী সরকার বিশাল কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার এবং সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রংপুর‑২ আসনের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত প্রার্থী এবং বদরগঞ্জ উপজেলার বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জানান, “আমি তৃণমূল থেকে বিএনপি-তে যুক্ত, তাই মনোনয়ন পাওয়ার অধিকার ছিল আমার। তবে দল আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে, আমি মিছিল ও প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করছি।” তার এই বক্তব্য থেকে দলীয় অভ্যন্তরে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রতি অসন্তোষের মাত্রা স্পষ্ট হয়েছে।

বিএনপি রংপুরে যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে, তা আসন্ন নির্বাচনে পার্টির পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি দলীয় সমন্বয় না থাকে, তবে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে এবং বিরোধী দলগুলোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে দলীয় নেতারা একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে, অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সীমিত রাখার চেষ্টা করছেন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, রংপুরের এই রাজনৈতিক গতিবিধি নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত। দলীয় সমন্বয় বজায় রাখতে পারলে বিএনপি তার ঐতিহ্যবাহী ভোটারভিত্তি ধরে রাখতে পারবে, অন্যথায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ভোটারদের অন্য পার্টিতে সরে যাওয়ার কারণ হতে পারে। নির্বাচনের আগে উভয় দিকের প্রচার ও সমাবেশের তীব্রতা বাড়বে বলে আশা করা যায়, যা রংপুরের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments