ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কুমিল্লা-৬ আসনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনিরুল হক সাক্কু রোববার সকালেই মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের উপস্থিতিতে ফরম সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়, যা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সাক্কুর পক্ষ থেকে সম্পন্ন করেন।
গোলাম মোস্তফা ফরম সংগ্রহের পর সাক্কুর পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি সাক্কুর জনসেবার ধারাবাহিকতা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সাক্কু পূর্বে কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং দুইবার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ফলে তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন।
বিএনপি শাসনকালে দু’বার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাক্কু আবার স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। তার এই পদক্ষেপের ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কৃত করা হয়।
বহিষ্কারের পর সাক্কু কুমিল্লা-৬ নির্বাচনী এলাকায় তারেক রহমানের ৩১ দফার প্রচারণা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপি থেকে মনিরুল হক চৌধুরীর প্রচারে সাক্কু ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, যা স্থানীয় স্তরে দলীয় সমর্থনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্কুর রাজনৈতিক যাত্রা ১৯৯৩ সালে কুমিল্লা জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু হয় এবং ২০১০ পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০৫ সালের উপনির্বাচনে তিনি কুমিল্লা পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন এবং ২১ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান। ২০০৯ সালে একই পদে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হন।
২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী আফজল খানকে পরাজিত করে মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হন। ২০১৭ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালে বিএনপি তার স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সাক্কুকে বহিষ্কৃত করে, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তোলে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর ২০২২ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের উপ-নির্বাচনে সাক্কু স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে উভয়বারই তিনি পরাজিত হন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে সাক্কুর অংশগ্রহণ কুমিল্লা-৬ আসনে ভোটের বিভাজন ঘটাতে পারে, যা মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই ভোটভাণ্ডারকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাক্কুর স্বতন্ত্র প্রার্থিতা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে, তবে স্থানীয় স্তরে কিছু নেতা তার সমর্থনে এগিয়ে আসছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সাক্কুর উপস্থিতিকে ভোটের গতিপথ পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে এবং তার ক্যাম্পেইন কৌশলকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী সকল প্রার্থীর নাম নিবন্ধন শেষ হয়েছে, এবং এখন থেকে প্রচারণা পর্যায়ে প্রবেশ করা হবে।
সাক্কু ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিটিং, দরজা-দরজা সফর এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছেন।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই কুমিল্লা-৬ আসনে নিজেদের মূলধারার প্রার্থীকে শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত প্রচারণা চালাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনী চক্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভূমিকা কী হবে, তা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং ফলাফল কুমিল্লা-৬ এলাকার রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কুমিল্লা-৬ অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো প্রকল্প এবং স্থানীয় প্রশাসনিক নীতিমালার দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।



