দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের দুই শীর্ষ নাম, অলু আরজুন এবং ত্রিভিক্রাম শ্রীনিবাস, একত্রে নতুন মিথোলজিকাল মহাকাব্য গড়ার কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পটি তাদের চতুর্থ যৌথ সৃষ্টিকর্ম হিসেবে গন্য হবে এবং এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রস্তুতি ইতিমধ্যে অগ্রসর হওয়ায় শিল্পের ভেতরে ও ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত গল্পটি বিশেষভাবে অলু আরজুনের জন্য রচিত বলে জানা যায়। এতে প্রাচীন কাহিনীর ঐতিহ্যবাহী উপাদানকে আধুনিক সিনেমাটিক কৌশলের সঙ্গে মিশিয়ে একটি বিশাল স্কেলে উপস্থাপন করা হবে। অভিনেতার চরিত্রে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ উভয়ই থাকবে, যা তাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।
অলু আরজুন এবং ত্রিভিক্রাম শ্রীনিবাসের পূর্বের তিনটি সহযোগিতা – ‘জুলায়ি’, ‘এস/ও সৎযামূর্তি’ এবং ‘আলা বৈকুণ্ঠপুরামুলো’ – বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষত ‘আলা বৈকুণ্ঠপুরামুলো’ চলচ্চিত্রটি তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম হিট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং উভয় শিল্পীর সুনামকে আরও দৃঢ় করেছে।
নতুন প্রকল্পের বাজেটের কথা উল্লেখ করলে, এটি এক হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ রকম ব্যয়বহুল প্রকল্প ভারতীয় সিনেমায় এখনো অদেখা, যা এটিকে সর্বোচ্চ উচ্চাকাঙ্ক্ষী মিথোলজিকাল চলচ্চিত্রের মধ্যে স্থান দেবে। উচ্চমানের ভিএফএক্স, আধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং বিশাল সেটের ব্যবহার দিয়ে গল্পকে জীবন্ত করা হবে।
প্রযোজকরা এই চলচ্চিত্রকে কেবল তেলুগু দর্শকদের নয়, সমগ্র ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন। তাই স্ক্রিপ্টে এমন উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দর্শকদের কাছে সহজে পৌঁছাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, চলচ্চিত্রটি বহু ভাষায় ডাবিং বা সাবটাইটেল সহ মুক্তি পেতে পারে।
প্রযোজনার সূচনা ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ নির্ধারিত হয়েছে। যদিও এখনো কোনো সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে শুটিং শিডিউল এবং প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। এই সময়সূচি অনুসারে, চলচ্চিত্রটি ২০২৯ সালের শেষের দিকে বড় স্ক্রিনে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মহাকাব্যিক প্রকল্পের সফলতা উভয় শিল্পীর ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক যোগ করবে এবং ভারতীয় মিথোলজি জঁরে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় অপেক্ষা, এবং শিল্পের জন্য এটি নতুন প্রযুক্তি ও বর্ণনাশৈলীর সমন্বয় ঘটাবে।
চলচ্চিত্রের অগ্রগতি ও মুক্তির তারিখ সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য পেতে, সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্রের অফিসিয়াল চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যম অনুসরণ করা উচিৎ। এভাবে আপনি প্রকল্পের কোনো নতুন ঘোষণা বা ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জানাতে পারবেন।



