28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল ট্যাঙ্কার জব্দকে ‘সর্ববৃহৎ জবরদস্তি’ বলে অভিযোগ করে

ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল ট্যাঙ্কার জব্দকে ‘সর্ববৃহৎ জবরদস্তি’ বলে অভিযোগ করে

যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি ভেনেজুয়েলান তেল ট্যাঙ্কার জব্দের পর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সর্ববৃহৎ জবরদস্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘ প্রতিনিধি স্যামুয়েল মনকাদা ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দেশের উপর পুনরায় উপনিবেশ স্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই জরুরি সভা ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনা আলোচনার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল, যা মাসের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছাকাছি ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের সঙ্গে একই সময়ে তৃতীয় ভেনেজুয়েলান ট্যাঙ্কার অনুসরণ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর মাদক কার্টেল চালানোর অভিযোগ তুলে, গ্যাংগুলোকে দীর্ঘ সময় অবধি অপরাধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার জন্য সমালোচনা করেন। ১৬ ডিসেম্বর তিনি ভেনেজুয়েলা থেকে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সকল নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত তেল ট্যাঙ্কারের উপর নৌবন্দী আরোপের নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের মতে, জব্দকৃত ট্যাঙ্কারের তেল ও জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকবে অথবা বিক্রি করা হবে।

এই নৌবন্দীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ১৫,০০০ সৈন্য, একাধিক বিমানবাহিনীর ক্যারিয়ার, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপসহ বৃহৎ সামরিক শক্তি ক্যারিবিয়ানে মোতায়েন করেছে। এই মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য হল যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ও কোকেইনের প্রবাহ রোধ করা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ২০টিরও বেশি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে, যার ফলে অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই আক্রমণগুলোকে ট্রাম্পের মাদক পাচার গ্যাংবিরোধী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, এই ধরনের আক্রমণ সশস্ত্র সংঘাতের আইনি বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি করে।

স্যামুয়েল মনকাদা নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে কাজ করা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা এমন একটি শক্তির মুখোমুখি যা আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রম করে, ভেনেজুয়েলানদের দেশ ত্যাগ করতে এবং আমাদের সম্পদ হস্তান্তর করতে দাবি করে।” তিনি জব্দকৃত তেল ও জাহাজকে ‘লুণ্ঠন, লুট এবং পুনরায় উপনিবেশ স্থাপন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

মনকাদা আরও জোর দিয়ে বলেন, ক্যারিবিয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিচারিক অধিকার নেই এবং তার পদক্ষেপগুলো ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের সরাসরি হুমকি। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জব্দকৃত তেল ও জাহাজের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকলেও, ট্রাম্পের প্রশাসন ইতিমধ্যে ট্যাঙ্কারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে ধরে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলা সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘অন্যায়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন, যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় সামরিক উপস্থিতি এবং তেল বাজারের ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধির ওপর নতুন আলো ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে।

অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েনের পরিমাণ ১৯৮৯ সালে প্যানাম আক্রমণের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে, যা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের আইনি বৈধতা ও মানবিক প্রভাবের ওপর প্রশ্ন তুলছেন।

ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই তেল ট্যাঙ্কার বিরোধ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও সমুদ্র আইন সংক্রান্ত আলোচনার নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments