বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তে রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের যুব শক্তি গড়ে তোলার জন্য নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ ও যুবসমাজকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সুবিধা দিয়ে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এখন অগ্রাধিকার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমে শহীদ ওসমান হাদির মাগফেরাত চেয়ে দেশের প্রতি তাদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হারিয়ে যাওয়া তরুণরা দেশের অমূল্য সম্পদ। শহীদদের স্মরণে তৈরি করা এই ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভকে জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তারেক রহমান ইন্টারনেটকে দেশের নতুন ডিজিটাল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে, এর অবাধ ব্যবহারকে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী উভয়ের জন্য সুবিধাজনক করে তোলার কথা বলেন। তিনি জোর দেন, সরকার গঠন করলে অনলাইন পেশায় যুক্ত মানুষদের জন্য নীতি তৈরি করা হবে, যাতে প্রযুক্তি ব্যবহার সহজ ও সাশ্রয়ী হয়।
বিএনপি অতীতেও দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তিনি তা স্মরণ করে বলেন, এখনো দেশের সেবা করার ইচ্ছা অটুট। তবে তিনি স্বীকার করেন, সামনে কঠিন সময় আসছে; তাই সকল সমর্থককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপি তার ৩১টি মূল দফা থেকে ৭টি মূল দফা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড বলে তিনি উল্লেখ করে, শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য নতুন উদ্যোগ নেবে।
বিশেষ করে তিনি সারাদেশে এক লাখ নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা গ্রামীণ ও নগর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, যুবসমাজের জন্য ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানো হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যয়বহুল মনে করা জনগণের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমানের পাশাপাশি বগুড়া জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক মেয়র এড. একেএম মাহবুবুর রহমান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র-সহ সভাপতি ও সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সাবেক শিক্ষাবিদ একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক এমপি গোলাম মো. সিরাজ, আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা ভিপি সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চান, আলী আজগর তালুকদার হেনা, এডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরি হিরু এবং যুবদল নেতা আবু হাসান সহ বহু ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন।
তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম সহজে তাদের ইতিহাসে পৌঁছাতে পারে।
বিএনপি এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করে যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে চায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বিরোধী দলগুলো এই পরিকল্পনাকে রাজনৈতিক স্বার্থের ছদ্মবেশে দেখিয়ে সমালোচনা করেছে, এবং বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত নীতি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সকল উপস্থিতি একসাথে শহীদদের স্মরণে এক মুহূর্ত নীরবতা পালন করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।



