22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধহাতিয়া উপজেলায় চর দখল নিয়ে সংঘাতে ৫ জন নিহত, কোনো গ্রেফতার হয়নি

হাতিয়া উপজেলায় চর দখল নিয়ে সংঘাতে ৫ জন নিহত, কোনো গ্রেফতার হয়নি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাগলার চর দখল নিয়ে শামছু ও আলাউদ্দিন গোষ্ঠীর মধ্যে মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চলা গুলিবর্ষণ শেষমেশ পাঁচজনের মৃত্যু ও দশের বেশি আহতের কারণ হয়। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি, অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি।

বুধবার সকালে হাতিয়া থানা থেকে মৃতদেহগুলো নোয়াখালি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে এক মৃতদেহই একই মর্গে রাখা হয়েছিল, ফলে মোট ছয়টি দেহ মর্গে পৌঁছেছে। মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিবারকে জানানো হয়েছে।

মৃতদেহের মধ্যে ছিলেন মো. আলাউদ্দিন (৩৫), যিনি আলাউদ্দিন গোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন; কামাল উদ্দিন (৪০), যিনি নলের চরের সেকু মিয়ার পুত্র; মোবারক হোসেন (২৩), শামছু গোষ্ঠীর শামছুর পুত্র; হকসাব (৫৫), পশ্চিম লক্ষিদিয়া এলাকার বাসিন্দা; এবং আবুল কাশেম (৬২), দক্ষিণ চর মজিদের বাসিন্দা।

আলাউদ্দিন গোষ্ঠীর প্রধানের মৃত্যুর পাশাপাশি শামছু গোষ্ঠীর শামছুর পুত্র মোবারক হোসেনেরও মৃত্যু ঘটেছে। শামছুর স্ত্রী মাহফুজা বেগম এখনো স্বামীর দেহের সন্ধান করছেন এবং পরিবারকে সহায়তা করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

গুলিবর্ষণের ফলে আহতদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী মো. সোহাবকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোহাবকে সোহরাহ নিঝুম দ্বীপের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খবির উদ্দিনের পুত্র হিসেবে পরিচিত। তার পাশাপাশি আরও দশের বেশি ব্যক্তি গুলির আঘাতে আহত হয়েছেন।

হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, এখনো কোনো পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, ফলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যদি পরিবার অভিযোগ করে তবে তদন্ত চালিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, সংঘাতের মূল কারণ ছিল জাগলার চরের দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে টানা বিরোধ। শামছু ও আলাউদ্দিন গোষ্ঠীর সদস্যরা চরের দখল নিয়ে একে অপরের সঙ্গে গুলি চালায়, যার ফলে প্রাণহানি ও আঘাত হয়।

ঘটনার পর থেকে চরের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা গুলিবর্ষণের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে।

অধিকাংশ পরিবার এখনও শোকাহত, তবে কিছু পরিবার এখনও শোক প্রকাশের জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে।

হাতিয়া উপজেলায় চরের দখল নিয়ে চলমান বিরোধের পটভূমি দীর্ঘদিনের জমি-সম্পর্কিত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। তবে এই গুলিবর্ষণ প্রথমবারের মতো প্রাণহানি ঘটিয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনো গুলিবর্ষণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করতে ব্যর্থ। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এই ঘটনার পর থেকে নোয়াখালি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রধানকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি শীতল করা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments