বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বিকেলে ঢাকার চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব কেন্দ্রের ‘স্টার ইলেকশনস ডায়ালগ’‑এ নির্বাচনের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সতর্কবার্তা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার ফলে জনগণের মধ্যে ভোটের আয়োজন হবে কিনা এই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি দেখা দিচ্ছে।
ফখরুলের মতে, গত কয়েক মাস, বিশেষত শেষ কয়েক দিনের ঘটনা, মানুষকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে। তিনি বলেন, “যে মুহূর্তে নির্বাচন করার সুযোগ আসে, কিছু গোষ্ঠী ও ঘটনাবলী তা নষ্ট করার চেষ্টা করে।” এই উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশে সৃষ্ট ভয়কে উল্লেখ করে, তা দূর করে ভোটের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বিএনপি ১৫ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন, রক্তক্ষয়, দমন ও কষ্টের পর, বিশেষত ছাত্র নেতৃত্বাধীন উত্থানকে ভিত্তি করে বর্তমান নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, এ কথায় ফখরুল জোর দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই নির্বাচনকে মূল্যায়ন করে, তবে গত দশ পাঁচ বছরে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠেছে যেখানে মানুষ ভয় পায় যে নির্বাচন না করাই বাঁচার একমাত্র উপায়।”
বিএনপির ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি উল্লেখ করেন, দলটি সবসময়ই নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছে, যদিও অতীতে কিছু সমালোচক দলকে শুধুমাত্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য নির্বাচনকে ব্যবহারকারী হিসেবে সমালোচনা করেছিল। ফখরুল বলেন, “বিলম্বের ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে যা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তাই আমরা সর্বদা একটি পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন চাই।” তিনি দলকে ‘দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল’ হিসেবে উপস্থাপন করে, দমন, নির্যাতন ও কষ্টের মুখেও মূল নীতি থেকে সরে না যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
বক্তৃতার সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা উল্লেখ করে, “মহিলা নেতা আমাদেরকে ভোটের গুরুত্ব ও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।” এই বার্তাকে তিনি দলের ভোটাভুটি সংক্রান্ত পরিকল্পনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিএনপি এই মুহূর্তে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে জোর দিচ্ছে, যাতে জনগণ ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারে। ফখরুলের মন্তব্যের পর, উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্নোত্তর সেশনে ভোট সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগ তুলে ধরেন, যার মধ্যে ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা অন্তর্ভুক্ত।
একই সময়ে, বাংলাদেশ হাইকমিশন নিউ দিল্লিতে কনসুলার ও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সংযোগ নির্বাচনের সঙ্গে নেই, তবে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফখরুলের বক্তব্যের পর, বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা একসাথে কাজ না করি, তবে নির্বাচনকে নষ্ট করার চেষ্টা করা গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়বে।”
বিএনপি এই বার্তা দিয়ে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে, যেখানে ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য সকল বাধা দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে, এটাই ফখরুলের শেষ মন্তব্য।
এই আলোচনার পর, স্টার ইলেকশনস ডায়ালগের অংশগ্রহণকারীরা ভোটের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। সকলের সম্মতিতে দেখা যায়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করবে এই ধরনের সংলাপের উপর, যা জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং ভোটের প্রতি আস্থা পুনর্নির্মাণে সহায়তা করে।



