ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারবে না। এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা ও অপারেশনাল শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সকল সহযাত্রী ও ভিজিটরের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এবং এই সময়ে টার্মিনাল এলাকায় কোনো অ-যাত্রী প্রবেশের অনুমতি থাকবে না।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা মেনে চলতে সকল যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে। নিরাপত্তা কর্মী ও টার্মিনাল কর্মীরা প্রবেশদ্বার পর্যবেক্ষণ করবে এবং অনুমোদিত যাত্রীদেরই প্রবেশের অনুমতি দেবে। এই সময়ে টার্মিনাল ভেতরে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা ভিজিটরদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে না।
এই নিরাপত্তা নির্দেশনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং পার্টির ভারপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসছেন। তারেক রহমানের এই সফর সরকারী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সঙ্গে যুক্ত, যা বিমানবন্দরের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবং নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশ সীমাবদ্ধ করেছে। এই পদক্ষেপটি তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি টার্মিনালের সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও নেওয়া হয়েছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই নির্দেশনা রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা গ্রহণের স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে একই সঙ্গে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে।
এই নির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
অধিকন্তু, বিমানবন্দরের এই বিশেষ অপারেশনাল ব্যবস্থা ভ্রমণ শিল্পে সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এয়ারলাইনগুলোকে নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া কোনো অতিরিক্ত সেবা প্রদান করতে না পারার ফলে টিকিটের পুনঃবিন্যাস এবং যাত্রীদের রিফান্ড প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাজের চাপ দেখা দিতে পারে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে অথবা অতিরিক্ত ঝুঁকি না থাকলে নিষেধাজ্ঞা সময়মতো শেষ করা হবে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, তারা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।
এই নির্দেশনার ফলে, বিমানবন্দরের কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। একই সঙ্গে, সরকারী নিরাপত্তা দপ্তরও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
সারসংক্ষেপে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধের নির্দেশনা নিরাপত্তা, অপারেশনাল শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশিত।



