27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জোটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারটি আসন বরাদ্দ

বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জোটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারটি আসন বরাদ্দ

বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের সর্বশেষ সমঝোতা অনুযায়ী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে চারটি পার্লামেন্টারি আসন প্রদান করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল‑বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে জানানো হয়। জোটের লক্ষ্য হল নির্বাচনের পূর্বে প্রান্তিক গোষ্ঠীর সমর্থনকে একত্রিত করা এবং ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করা।

সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃত্বাধীন দল সিলেট‑৫, নীলফামারী‑১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২ এবং নারায়ণগঞ্জ‑৪ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করবে। এই চারটি আসনের জন্য সংশ্লিষ্ট জমিয়তে নেতারা যথাক্রমে আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক (সিলেট‑৫), মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (নীলফামারী‑১), জুনায়েদ আল হাবিব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২) এবং মনির হোসেন কাসেমী (নারায়ণগঞ্জ‑৪) হিসেবে নাম উল্লেখ করেছেন।

মহাসচিব আলমগীর সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, যাঁরা এর বিরোধিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যটি জোটের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং সমঝোতার বাস্তবায়নে কোনো আপস না করার সংকেত দেয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও জোটের সমঝোতা সম্পর্কে মন্তব্য করে জানান, “জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। যেসব আসনে জমিয়তে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে আর কোনো বিএনপি প্রার্থী থাকবে না।” তার এই বক্তব্য জোটের কৌশলগত সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুকও সম্মেলনে নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “দেশের কল্যাণে জাতীয়তাবাদী দল সবচেয়ে বেশি আস্থাভাজন এবং আমরা এই সমঝোতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।” তার এই মন্তব্য জোটের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতি তার বিশ্বাসকে তুলে ধরে।

এই সমঝোতা নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারটি আসনকে জোটের আওতায় আনা হলে, বিএনপি‑জাতীয়তাবাদী জোটের ভোটার গোষ্ঠী বিস্তৃত হবে এবং নির্বাচনের পূর্বে প্রান্তিক ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে সিলেট, নীলফামারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই সমন্বয় জোটের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।

অন্যদিকে, জোটের অভ্যন্তরে কিছু সম্ভাব্য বিরোধের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। মহাসচিবের উল্লেখিত শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নির্দেশ করে যে, সমঝোতার বিরোধী কোনো মতামত প্রকাশ করলে তা কঠোরভাবে সামলানো হবে। এই ধরনের সতর্কতা জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য রক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে এই সমঝোতা জোটের ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমর্থন জোটের জন্য অতিরিক্ত ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে একই সঙ্গে, জোটের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য সমঝোতার পরিধি ও শর্তাবলী স্পষ্ট করা জরুরি।

এই সমঝোতার ফলে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সমর্থকরা বিএনপি‑জাতীয়তাবাদী জোটের প্রচারণা ও ভোটার সংযোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জোটের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা এবং সমন্বিত প্রচারণা কৌশল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিকভাবে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারটি আসনকে জোটের অংশ করে নেওয়া একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা জোটের ভোটার গোষ্ঠীকে বিস্তৃত করে এবং নির্বাচনী মঞ্চে শক্তি বৃদ্ধি করে। তবে জোটের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিরোধের দিক নির্দেশ করে। এই সমঝোতা কীভাবে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে এবং জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় কতটা টেকসই হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।

৯৬/১০০ ৪টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিনবিডিনিউজ২৪প্রথম আলোইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments