গোলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে আজ বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি সাইয়দ এহসানুল হুদা ও তার কিছু নেতা-সদস্য পার্টি ভেঙে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)‑এ যোগ দিলেন। হুদা বললেন, দেশের বর্তমান সংকটময় সময়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শে ভিত্তিক দলগুলোকে একত্রিত করা জরুরি, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করার জন্য।
অনুষ্ঠানে হুদা সরাসরি বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ফুল তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান সম্পন্ন করেন। হুদা বর্তমানে কিশোরগঞ্জ‑৫ আসনের জন্য নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যদিও ৪ ডিসেম্বর বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান ইকবালকে ওই আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত করেছে।
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য নাজরুল ইসলাম খানও যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুলের মন্তব্যে তিনি জানালেন, হুদা ও তার দলের সদস্যরা দলের কার্যনির্বাহী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে, জিয়াুর রহমানের ১৯‑পয়েন্ট প্রোগ্রাম ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
হুদা যোগদানের পর বলেন, বিএনপি জাতীয়তাবাদী নীতি অনুসরণকারী দল, এবং এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হতে একসাথে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলভাঙ্গনের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের স্বার্থে একতাবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করা।
বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল ফখরুল যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এখনো হুদা কোন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা চূড়ান্ত করা হয়নি; প্রার্থীদের তালিকা ঘোষিত হলে তা স্পষ্ট হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলীয় সংহতি ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা বজায় রেখে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা হবে।
হুদা উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বহু সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখে জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে একত্রিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি‑এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে।
অনুষ্ঠানের পর হুদা কিশোরগঞ্জ‑৫ নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা শেয়ার করেন। যদিও বিএনপি ইতিমধ্যে ইকবালকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে, হুদা উল্লেখ করেন যে তার অংশগ্রহণের সময়সূচি ও আসন নির্ধারণের বিষয়টি পার্টি নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শের পরে চূড়ান্ত হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, হুদা ও তার দলের যোগদান পার্টির সংগঠনের শক্তি বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন গতিশীলতা যোগ করবে। তারা আশা করে, এই সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের যোগদান অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে একাধিক দল একত্রিত হয়ে জাতীয়তাবাদী নীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল গড়ে তুলছে।



