বিহার দল বুধবার ভিজায় হাজারে টুর্নামেন্টের আরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে 574 রান গড়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। এই রেকর্ডটি আন্তর্জাতিক তালিকায় সর্বোচ্চ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ৫০‑ওভার প্রতিযোগিতায় পূর্বে কোন দলই এই পরিমাণে স্কোর করতে পারেনি।
বৈভাব সুরিয়াভানশি প্রথম ব্যাটিংয়ে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলে 150‑এর বেশি রান সংগ্রহ করেন, যা দলের দ্রুত গতি নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। তার পরের ব্যাটস্ম্যান আয়ুশ লোহারুকাও ত্রিকোটি পার করে তিন অঙ্কের স্কোরে পৌঁছান, আর সাকিবুল গানি দ্রুতই তার শতকোটি যোগিয়ে দলকে অতিরিক্ত শক্তি প্রদান করেন। তিনজন ব্যাটসম্যানের শতকোটি মিলিয়ে বিহারকে বিশাল মোট স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
বিহারের আক্রমণাত্মক খেলা পুরো ইনিংজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রানের প্রবাহ বজায় রাখে। মাঝখানে কোনো বড় ধীরগতি না থাকায় প্রতিপক্ষের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে রান দিচ্ছিলেন, ফলে স্কোরবোর্ড দ্রুতই ৫০০‑এর কাছাকাছি পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের ক্ষতিতে দলটি 574 রান করে, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে পূর্বে টানা 506 রান (টামিল নাড়ুর, ২০২২) অতিক্রম করে।
টুর্নামেন্টের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ দলীয় রেকর্ড টামিল নাড়ুর দল ২০২২ সালে ভিজায় হাজারে টুর্নামেন্টে ২ উইকেটে 506 রান করেছিল। আকস্মিকভাবে, সেই রেকর্ডের সময়ও টামিল নাড়ুর প্রতিপক্ষ আরুণাচল প্রদেশ ছিল, যা এই রেকর্ডকে আরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত করে। বিহার এই নতুন রেকর্ড দিয়ে সেই ঐতিহাসিক স্কোরকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বিহার দলের ক্যাপ্টেন ম্যাচের পর দলের শক্তি ও প্রস্তুতি নিয়ে মন্তব্য করে, “এমন বিশাল স্কোর অর্জন করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়, এবং পুরো দলই একসাথে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করেছে। আমাদের ওপেনিং জুটি এবং মাঝের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সই মূল চালিকাশক্তি ছিল।” কোচও যোগ করেন, “খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা, ফিটনেস এবং মানসিক প্রস্তুতি এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা এখন পরবর্তী রাউন্ডের জন্য আত্মবিশ্বাসী।”
আরুণাচল প্রদেশের দলও এই বিশাল স্কোরের মুখোমুখি হয়ে কঠিন সময় কাটিয়েছে। যদিও তাদের বোলিং লাইনে কিছু মুহূর্তে চাপ সৃষ্টি করতে পারলেও, বিহারের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মকতা শেষ পর্যন্ত তাদেরকে বড় স্কোরে আটকে রাখে। দলটি পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভিজায় হাজারে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে বিহার দলকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, যা তাদের রেকর্ড বজায় রাখার পাশাপাশি শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ হবে। দলটি এখন পর্যন্ত যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ এবং কৌশলগত পরিকল্পনা উভয়ই টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
এই রেকর্ডটি শুধু বিহারই নয়, পুরো লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের জন্যই একটি মাইলফলক, যা ভবিষ্যতে দলগুলোকে উচ্চতর স্কোরের দিকে ধাবিত করবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসরে এই রেকর্ডের গুরুত্ব বাড়বে, এবং ভিজায় হাজারে টুর্নামেন্টের মান ও প্রতিযোগিতার স্তরকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।



