২৪ ডিসেম্বর বুধবার জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) উদ্ভাবিত প্রযুক্তি পরিচিতি বিষয়ক একটি কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালায় বন ব্যবস্থাপনা ও বনসম্পদ সংক্রান্ত নতুন প্রযুক্তি উপস্থাপন ও আলোচনা করার উদ্দেশ্য ছিল। উপস্থিতির মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। সভার সভাপতিত্ব করেন বিএফআরআই বন ইনভেন্টরী বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. শেখ মোহাম্মদ রবিউল আলম, যিনি কর্মশালার মূল সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বগুড়ার সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেসমিন নাহার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ারুল হক আনু এবং জামালগঞ্জ হর্টিকালচার সহকারি পরিচালক মজিবর রহমানও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা বিএফআরআই তথ্য ও প্রযুক্তি শাখার সিনিয়র রিসার্চ অফিসার মো. জহিরুল আলমের দায়িত্বে ছিল। তিনি কর্মশালার সময়সূচি অনুসারে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নোত্তর সেশনের সুযোগ প্রদান করেন।
বন ব্যবস্থাপনা উইং-এর প্রযুক্তি উপস্থাপন করেন ড. শেখ মোহাম্মদ রবিউল আলম, যিনি নতুন স্যাটেলাইট ইমেজিং, ড্রোন ভিত্তিক ত্রিভুজীয় মানচিত্র এবং স্বয়ংক্রিয় গাছের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। চট্টগ্রাম ও বনজ সম্পদ উইং থেকে ড. সুবীর কুমার বিশ্বাস বনসম্পদ সংরক্ষণ, কাঠের গুণগত মান উন্নয়ন এবং টেকসই বনের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রযুক্তি উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় বন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিআরডিবি, সমবায় অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, তথ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, কাঠ ব্যবসায়ী, নার্সারি, করাতকল ও ফার্নিচার মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অংশগ্রহণ কর্মশালার বিষয়বস্তুকে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ তৈরি করে।
এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল বিএফআরআই গবেষকদের দ্বারা বিকশিত প্রযুক্তিগুলোকে মাঠে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার করে বন সংরক্ষণ, কাঠের উৎপাদন দক্ষতা এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ উন্নত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত কর্মসূচি চালু করার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালার সমাপ্তিতে উপস্থিত সবাইকে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই বন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।



