ফেনি জেলার নির্বাচনী অফিসে আজ দুপুরে বিএনপি দল ফেনি-১ (ফুলগাজি, পারশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা) আসনের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলনেত্রী খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, দলটি এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বিএনপি ফেনি জেলা ইউনিটের একটি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন আবু তলেব, প্রাক্তন পারশুরাম উপজেলা মেয়র এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, তিনি নিজেই মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং অফিসারকে হস্তান্তর করেন। তলেবের সঙ্গে কয়েকজন জেলা পর্যায়ের নেতা উপস্থিত ছিলেন, যারা দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে জড়িত।
তলেবের মতে, খালেদা জিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং দেশের মানুষের প্রার্থনার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফুলগাজি, পারশুরাম ও ছাগলনাইয়া এলাকার মানুষদের মধ্যে খালেদা জিয়ার জন্য গভীর সমর্থন ও প্রত্যাশা রয়েছে, এবং তারা শীঘ্রই তাকে ভোটের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত।
ফেনি-১ আসনটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক অঞ্চল, যেখানে কৃষি ও মৎস্য উভয়েরই সমৃদ্ধি রয়েছে। এই এলাকায় ভোটারদের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি, এবং পূর্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়েরই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। তলেবের মন্তব্যে দেখা যায়, এই আসনে খালেদা জিয়ার প্রার্থীতা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং এই সময়ে বিভিন্ন দল তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিএনপি ইতিমধ্যে বগুড়া-৭, দিনাজপুর-৩ এবং ফেনি-১ আসনে খালেদা জিয়াকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা পার্টির কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তলেবের দলীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে দেখা যায়, পার্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি দৃঢ় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও সরকারী পক্ষের মন্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারী পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে সকল প্রার্থীর স্বাস্থ্যের অবস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনী কমিশনের দায়িত্ব হল সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে গ্রহণ ও যাচাই করা, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
বিএনপি দলের এই পদক্ষেপের ফলে ফেনি-১ আসনে ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীরা জানান, নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি চালু হবে, যাতে ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ হয়। তলেবের দলীয় সদস্যরা ইতিমধ্যে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা তৈরি করেছেন, যার মধ্যে রেলওয়ে স্টেশন, বাজার ও ধর্মীয় স্থানে সমাবেশের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে শুভেচ্ছা ও প্রার্থনা জানানো হয়েছে। তলেবের উক্তিতে স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্বাস করেন যে দেশের মানুষের সমর্থন ও প্রার্থনা তার দ্রুত আরোগ্যে সহায়ক হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্যও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের এই ধাপটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক, এবং এটি প্রার্থীর নির্বাচনী যোগ্যতা নিশ্চিত করে। ফেনি জেলার রিটার্নিং অফিসার এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করেছেন, এবং সংশ্লিষ্ট দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, খালেদা জিয়ার ফেনি-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। যদি তিনি নির্বাচনে সফল হন, তবে তা বিএনপির পার্টি কাঠামো ও কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তার ঐতিহাসিক সমর্থন ভিত্তি রয়েছে।
অবশেষে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, ভোটারদের জন্য তথ্য প্রদান ও নির্বাচনী দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সব দলই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের প্রার্থী ও প্রচারণা পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করবে।



