বিনোদন জগতে নতুন সুরের ঝলক নিয়ে শ্রীমতি শ্রুতি হাসান টামিল চলচ্চিত্র ‘ট্রেন’‑এর জন্য ‘কন্নাকুজিকারা’ গানের স্বর তুলেছেন। এই গীতটি মাইস্কিন পরিচালিত ছবির বর্ণনায় আবেগের নতুন স্তর যোগ করেছে এবং একই সঙ্গে হাসানকে অভিনেত্রী হিসেবে স্ক্রিনে উপস্থিত করেছে। ছবিতে তিনি ভিজে সেতুপথের সঙ্গে কাজ করছেন, যার সঙ্গে আছে বিশিষ্ট অভিনেতা বিকি সেথুপতি।
‘কন্নাকুজিকারা’ গানের প্রকাশনা চলচ্চিত্রের প্রি‑রিলিজ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে করা হয়েছে, যা টামিল সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। গানের সুরে মায়েস্কিনের সূক্ষ্ম পরিচালনাশৈলীর ছাপ স্পষ্ট, যেখানে সঙ্গীত ও চিত্রের সমন্বয় গল্পের গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছে। এই সুরের মাধ্যমে হাসানের কণ্ঠে এক ধরনের নরমতা ও শক্তি মিশে আছে, যা দর্শকের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
‘ট্রেন’ ছবিটি মাইস্কিনের স্বকীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নির্মিত, যেখানে মানবিক সম্পর্কের জটিলতা ও সামাজিক কাঠামোর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হাসান এই ছবিতে প্রধান চরিত্রের সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত, যা তার অভিনয় পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিকি সেথুপতির সঙ্গে তার পারস্পরিক ক্রিয়া ছবির নাটকীয় গতি বাড়িয়ে তুলেছে এবং দর্শকের মনোযোগ ধরে রেখেছে।
শ্রুতি হাসান মাইস্কিনের সঙ্গে কাজ করার সময় যে স্বাধীনতা অনুভব করেছেন, তা তিনি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পরিচালক তার কাজের পরিবেশকে মুক্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলেন, যা শিল্পীর সৃজনশীলতা উন্মোচনে সহায়ক। এই ধরনের পরিবেশে তিনি নিজের স্বভাব ও স্বতঃস্ফূর্ততা দিয়ে চরিত্রে ঢুকে যান।
হাসান তার পারফরম্যান্সে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, তা তিনি নিজস্বভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “কিভাবে শ্বাস ত্বরান্বিত করা যায়, তবু তা স্পষ্ট না হয়ে দেখায়”—এটি তার অভিনয়কৌশলের সূক্ষ্ম দিক। এই অভিজ্ঞতা তাকে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে।
গত বছর হাসানের জন্য বিশেষভাবে সফল ছিল, যেখানে তিনি রজিনিকান্তের সঙ্গে ‘কুলি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘কুলি’ তে তার উপস্থিতি বক্স অফিসে ভালো ফলাফল এনে দিয়েছে এবং সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। এই সাফল্য তার ক্যারিয়ারে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে।
এছাড়াও, তিনি স.এস. রাজামৌলির ‘ভারাণসী’ ছবির শিরোনাম গানে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে মি.এম. কীরাভানির সুরের সঙ্গে তার কণ্ঠস্বর মিশে একটি স্মরণীয় সুর তৈরি করেছে। এই গানের মাধ্যমে হাসান সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তার বহুমুখিতা প্রমাণ করেছেন। তিনি গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের থিমকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
মি.এম. কীরাভানির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হাসানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাকে সঙ্গীতের জগতে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছে। এই সহযোগিতা তার সুরের বোধগম্যতা ও গায়নশৈলীর উন্নতি ঘটিয়েছে। ফলে তিনি সঙ্গীত ও অভিনয়ের সমন্বয়ে একটি সুষম সমন্বয় গড়ে তুলতে পেরেছেন।
‘ট্রেন’ ছবিতে হাসানের অংশগ্রহণ তার শিল্পীসত্তার বহুমুখিতা আরও স্পষ্ট করেছে। গানের মাধ্যমে তিনি সুরের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আর অভিনয়ে তিনি চরিত্রের গভীরতা অন্বেষণ করেছেন। এই দ্বৈত ভূমিকা তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শ্রুতি হাসানের এই নতুন সিঙ্গেল ও চলচ্চিত্রের সংমিশ্রণ তার সৃজনশীল যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। গানের সুর ও ছবির বর্ণনা একে অপরকে পরিপূরক করে, যা দর্শক ও শ্রোতাদের জন্য একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এই সমন্বয় তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।
‘কন্নাকুজিকারা’ গানের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মিডিয়ায় হাসানের কণ্ঠের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। ভক্তরা গানের মেলোডি ও লিরিক্সের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করছেন এবং ছবির প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলছেন। এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছবির প্রি‑রিলিজ প্রচারকে আরও শক্তিশালী করেছে।
চলচ্চিত্র ‘ট্রেন’ এখনো মুক্তি পায়নি, তবে তার টিজার ও সঙ্গীতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী ফ্যানবেস গড়ে উঠেছে। মাইস্কিনের স্বতন্ত্র দৃষ্টিকোণ ও হাসানের সঙ্গীতময় পারফরম্যান্সের সমন্বয় ছবিটিকে আলাদা করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রত্যাশা শিল্পের মধ্যে একটি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
শ্রুতি হাসানের এই বছরকালের কাজগুলো তার শিল্পীসত্তার বহুমুখিতা ও পরিশ্রমের ফলাফল। তিনি সঙ্গীত, অভিনয় ও বিভিন্ন শৈলীর সমন্বয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই ধারাবাহিকতা তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
অবশেষে, ‘ট্রেন’ ছবির মুক্তি ও ‘কন্নাকুজিকারা’ গানের সাফল্য হাসানের ক্যারিয়ারে একটি নতুন মাইলফলক চিহ্নিত করবে বলে আশা করা যায়। দর্শক ও শ্রোতারা এই সংমিশ্রণকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে। তবে এখন পর্যন্ত সব সূচকই ইঙ্গিত করে যে হাসানের সৃজনশীল যাত্রা আরও উজ্জ্বল দিকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।



