সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার: অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের সামনে আসন্ন কয়েক সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়কালে সরকার, রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বিত কাজ না হলে জাতীয় স্বার্থে কোনো বিকল্প নেই।
ভট্টাচার্য বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়; তাই এখনই ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার ও বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক শক্তিকে একসাথে কাজ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনর্নির্মাণে মনোযোগ দিতে হবে।
গত দুই মাসে তিনি আটটি বিভাগীয় শহরে আঞ্চলিক প্রাক-নির্বাচনী পরামর্শ সভা পরিচালনা করেছেন, যেখানে নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগ ছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হওয়া প্রত্যাশা। এই পরামর্শ সভাগুলোতে তিনি লক্ষ্য করেন, ভোটের প্রস্তুতি এখন দেশের সর্বজনীন আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে এবং সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া তা সফল হবে না।
জনমত গঠনে দুটি শব্দ – ‘অংশগ্রহণমূলক’ ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ – বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, এই শব্দগুলোর স্পষ্ট অর্থ না জানলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গুণগত মান নিয়ে বড় বিতর্কের সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে এই সূচকগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার।
নির্বাচনের নিরাপত্তা বিষয়েও জনগণ উদ্বিগ্ন। ভট্টাচার্য জানান, ভোটের দিনই নয়, ভোটের পরেও সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ ও সম্ভাব্য হিংসা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন দাবি করেন।
অস্ত্র পাচার ও লুটের বিষয়েও তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে লুট হওয়া বহু অস্ত্র এখনো পুনরুদ্ধার করা হয়নি এবং সীমান্তে নতুন অস্ত্র প্রবেশের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ভট্টাচার্য বলেন, এই সমস্যার সমাধানে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং জনগণও এ বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপের দাবি রাখে।
বৈঠকের প্রধানতায় ছিলেন সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন, যিনি সেশনটি পরিচালনা করেন। মূল বক্তা হিসেবে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ওয়ারেসুল করিম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। সকল অংশগ্রহণকারী একমত যে, নির্বাচনী সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন অপরিহার্য।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ভট্টাচার্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে উভয় সময়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অস্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



