বিহার দলের বিপরীতে আরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ভিজয় হাজরে ট্রফি প্রথম ম্যাচে ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সী ভায়াভব সুর্যবংশি ৮৪ বলের মধ্যে ১৯০ রান তৈরি করে দলকে জয়ী করিয়েছেন। এই পারফরম্যান্সে তিনি ১৬টি চৌকো এবং ১৫টি ছয় মারেন, যার ফলে তার স্ট্রাইক রেট ২২৬.১৯% হয়।
সুর্যবংশির ১৯০ রানের মধ্যে ১৫০ রান মাত্র ৫৯ বলে সম্পন্ন হয়, যা লিস্ট এ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ গতি রেকর্ডকে অতিক্রম করে। পূর্বে এই রেকর্ডটি এ বি ডি ভিলিয়ার্সের নামে ছিল, যিনি ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৪ বলে ১৫০ রান করেছিলেন।
এই রেকর্ডের পাশাপাশি, জোস বাটলারও ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৬৫ বলে ১৫০ রান করে তালিকায় যুক্ত ছিলেন। সুর্যবংশির এই সাফল্য তাকে লিস্ট এ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গতি দিয়ে ১৫০ রান করা খেলোয়াড়ের শিরোপা এনে দেয়।
সুর্যবংশি লিস্ট এ ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ শতকধারী হিসেবেও নাম রেকর্ডে যুক্ত হয়েছেন। তিনি ১৪ বছর ২৭২ দিনে শতক সম্পন্ন করে জাহুর এলাহির (১৫ বছর ২০৯ দিন) রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছেন।
বিহার দলের মোট স্কোর ৫৭৪/৬ রেকর্ড করে লিস্ট এ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ইনিংস স্কোরের নতুন শিরোপা অর্জন করে। পূর্বে টামিলনাড়ু দল ৫০৬/২ স্কোর দিয়ে এই রেকর্ড ধারণ করেছিল, যা আরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে গৃহীত হয়েছিল।
বিহার এই বিশাল স্কোরের পেছনে সুর্যবংশির আক্রমণাত্মক খেলা এবং দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সের সমন্বয় রয়েছে। তিনি পূর্বে আইপিএল, ইন্ডিয়া এ এবং অ্যান্ডি-১৯ স্তরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে এই মুহূর্তে লিস্ট এ ক্রিকেটে প্রথম শতক রেকর্ড করেন।
সুর্যবংশি ৩৬ বলে তৈরি করা শতকটি ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম, যেখানে মাত্র অন্মলপ্রীত সিং ৩৫ বলে দ্রুততম শতক রেকর্ড রেখেছেন। এই পারফরম্যান্স তাকে লিস্ট এ ক্রিকেটের সমবয়সী কোরি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে সমান করে চতুর্থ দ্রুততম শতকধারী করে তুলেছে।
বিহার দল ভিক্টরি নিশ্চিত করার পর পরবর্তী ম্যাচে একই টুর্নামেন্টের আরেকটি গ্রুপ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যেখানে আরুণাচল প্রদেশের বদলে অন্য একটি দলকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। দলটি এই জয়কে ভিত্তি করে টুর্নামেন্টের শীর্ষে উঠতে চায়।
সারসংক্ষেপে, রাঁচিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি সুর্যবংশির জন্য একটি মাইলফলক, যেখানে তিনি ব্যক্তিগত এবং দলীয় উভয় রেকর্ডই ভেঙে দিয়েছেন। তার অগ্রগতি ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



