কানাডা সরকার ২৪ ডিসেম্বর তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি নোটিশে জানিয়েছে যে, ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ও পরে বাংলাদেশে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং ধর্মঘটের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে কানাডার নাগরিকদের উচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বড় শহরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে শহরের বাইরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা নাগরিকদেরকে এই সম্ভাব্য বিঘ্নের কথা মাথায় রেখে তাদের যাত্রা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
কানাডা হাইকমিশনারের অফিসের ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত এই নোটিশে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সামান্য সতর্কবার্তা না থাকলে নিরাপত্তা অবনতির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং তা নাগরিকদের জন্য অপ্রত্যাশিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে এবং তা জনসমাগমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা থাকে, তাই বিদেশি নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।” এই ধরনের সতর্কতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাধারণ, বিশেষ করে যখন দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির থাকে।
কানাডা সরকার পূর্বে একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে, যেমন ১৫ ডিসেম্বর এবং ১১ নভেম্বরের নিরাপত্তা সতর্কতা, যা দেশের বিভিন্ন অংশে সম্ভাব্য অশান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছিল। এই ধারাবাহিক সতর্কতা নির্দেশ করে যে, কানাডা তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তথ্য শেয়ার করছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে প্রতিবাদ ও ধর্মঘটের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কানাডা এই প্রেক্ষাপটে নাগরিকদেরকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিচ্ছে।
সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি, কানাডা ভ্রমণ পরামর্শও হালনাগাদ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো নাগরিকের পরিকল্পনা ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরে না, বরং গ্রামীণ বা দূরবর্তী এলাকায় থাকে, তবে তাদেরকে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
কানাডা সরকার এই সতর্কতা জারি করার পেছনে মূল লক্ষ্য হল তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বেই অবহিত করা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতি অনুসারে, বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রতিটি দেশের দায়িত্বের অংশ, বিশেষ করে যখন তারা অন্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সময়ে সেখানে অবস্থান করে।
বাংলাদেশের সরকারও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা জারি করা দেশগুলোর সতর্কতা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
কানাডার এই সতর্কতা নাগরিকদেরকে তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, কানাডা ২৫ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আশেপাশে বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং যান চলাচলের বিঘ্নের সম্ভাবনা বিবেচনা করে তার নাগরিকদের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। নাগরিকদেরকে স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত থাকতে, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের উদাহরণ।



