ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পরাজয় এবং মাঠের বাইরে মদ্যপান সংক্রান্ত বিতর্কের মাঝখানে অধিনায়ক বেন স্টোকস দলকে একত্রে রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রথম তিন টেস্টে ধারাবাহিক হারে শিকল গেঁথে থাকা ইংলিশ দল এখন জেরবার অবস্থায়, তবে স্টোকসের মতে দলকে সুরক্ষিত রাখা এখন তার প্রধান দায়িত্ব।
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম তিন টেস্টে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ায় সিরিজের ফলাফল ইতিমধ্যে নির্ধারিত, তবে শ্রীলঙ্কা, ভারত ইত্যাদি দলের সঙ্গে বাকি দুই টেস্ট এখনও বাকি আছে। এই মুহূর্তে দলকে একত্রে রাখতে স্টোকসের নেতৃত্বের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সফরের মাঝামাঝি সময়ে ইংলিশ ক্রিকেটাররা কুইন্সল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর নুসায় অবসর সময় কাটিয়েছেন। মাঠের বাইরে স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং ব্যক্তিগত সময় উপভোগ করা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলা হলেও, দল পরিচালনা পরিচালক রব সফরের সময় অতিরিক্ত মদ্যপানকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ব্যাপক তদন্তের ঘোষণা করেছেন।
স্টোকস বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “কোনো ধরনের গুজব ও তথ্য আমি জানি, তবে আমার প্রধান দৃষ্টি এখন দলের ওপর, খেলোয়াড়দের ওপর। কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাব, সেটাই এখন আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
বক্তব্যের মধ্যে স্টোকস বিশেষভাবে বেন ড্যাকেটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ড্যাকেটের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি এবং তাকে আশ্বস্ত করেছি যে পুরো প্রক্রিয়ায় আমি তার পাশে থাকব। তার প্রভাব দলের মধ্যে বিশেষ, এবং সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে তার ভূমিকা অপরিহার্য।”
স্টোকসের এই মন্তব্যের পেছনে তার নিজের অতীতের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্রিস্টলের একটি বারে মারামারির ফলে তিনি একবার নিষিদ্ধ হয়েছিলেন, যা তাকে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ ও মিডিয়া দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দিয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কীভাবে একজন ক্রীড়াবিদকে প্রভাবিত করে, তা আমি নিজে অনুভব করেছি। তাই এই মুহূর্তে আমি সর্বদা তাদের পাশে থাকব।”
ড্যাকেটের সঙ্গে আলাপের সময় স্টোকস দলকে একত্রে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এই দলের জন্য ড্যাকেটের অবদান অনন্য, এবং তার উপস্থিতি দলের মনোবল বাড়ায়। সিরিজের বাকি দুই টেস্টে তার ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
স্টোকসের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বজায় রাখা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। তিনি অতিরিক্ত মদ্যপান সংক্রান্ত গুজবকে দমন করতে এবং দলের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত, এবং স্টোকস দলকে প্রস্তুত রাখতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশন ও মানসিক সমর্থন ব্যবস্থা চালু করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, দল এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সিরিজের শেষ পর্যন্ত দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
সফরের সময়কালে দল পরিচালনা পরিচালক রবের নির্দেশনা অনুসারে, খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত মদ্যপান না করার জন্য কঠোর নজরদারি চালু করা হয়েছে। স্টোকসের নেতৃত্বে এই নীতি কার্যকর করা হবে, যাতে কোনো অনুপযুক্ত আচরণ না ঘটে এবং দল শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে।
স্টোকসের এই সব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল দলকে একত্রে রাখা এবং মঞ্চে সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “আমি সবসময়ই আমার খেলোয়াড়দের পাশে থাকব, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন কিছু খেলোয়াড়ের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।”
অস্ট্রেলিয়া সফরের পরবর্তী টেস্টগুলোতে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স কীভাবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে স্টোকসের দৃঢ় নেতৃত্ব এবং ড্যাকেটের সমর্থন দলকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা রাখে। এই পরিস্থিতিতে দলকে একত্রে রাখার জন্য স্টোকসের প্রতিশ্রুতি এবং তার অতীতের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



