22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রামপুরা হত্যাকাণ্ডে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফ্রেমিং

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রামপুরা হত্যাকাণ্ডে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফ্রেমিং

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) আজ রামপুরা এলাকায় ১৮ ও ১৯ জুলাই গত বছর ছাত্রদের প্রতিবাদে ২৮ জনের মৃত্যু ঘটানো হত্যাকাণ্ডের জন্য চারজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেছে। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেল, বিচারপতি গোলাম মরতুজা মজুমদার নেতৃত্বে, অভিযোগের রূপরেখা নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্টদের সামনে ‘দোষ স্বীকার করবেন নাকি না’ প্রশ্ন উত্থাপন করে।

রামপুরা হত্যাকাণ্ডটি ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে ঘটেছিল, যখন ছাত্র সংগঠনগুলো সরকারী নীতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিরোধে রাস্তায় নেমে আসে। সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সংঘর্ষের শিখা বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু ও বহু আহত হয়। ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে যায় এবং আইসিটি‑১-এ মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় পরিণত হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন প্রাক্তন বাংলাদেশ গার্ড (বিজি) কর্মকর্তা রয়েছে: লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদওয়ানুল ইসলাম এবং মেজর রাফাত বিন আলম মুন। উভয়ই মূলত সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং পরে বিজি-তে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তৃতীয় অভিযুক্ত হলেন খিলগাঁওয়ের প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মোঃ রাশেদুল ইসলাম, আর চতুর্থজন হলেন রামপুরা থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ মোশিয়র রহমান।

ট্রাইব্যুনাল রেডওয়ানুল ইসলাম ও রাফাত মুনকে প্রশ্ন করার সময় প্রত্যেককে ‘দোষ স্বীকার করবেন নাকি না’ জিজ্ঞাসা করে। উভয়ই ‘দোষ স্বীকার করছি না’ বলে উত্তর দেন। রেডওয়ানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের ডকের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি নির্দোষ, এবং এই আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।” রাফাত মুনের প্রতিক্রিয়া একই রকম, তিনি নিজেকে অপরাধমুক্ত বলে দাবি করেছেন।

অন্য দুই অভিযুক্ত—মোঃ রাশেদুল ইসলাম ও মোঃ মোশিয়র রহমান—এখনো গ্রেফতার হয়নি এবং বর্তমানে পলায়নরত অবস্থায় রয়েছে। আদালত তাদের গ্রেফতার ও প্রক্রিয়াকরণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে মামলাটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান করা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামপুরা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কিছু রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের নেতিবাচক প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষতি না হয়।

আইসিটি‑১-এ অভিযোগের ফ্রেমিংয়ের পর আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ-প্রসঙ্গ উপস্থাপনের পাশাপাশি সাক্ষ্যগ্রহণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, যদি অভিযুক্তরা অব্যাহতভাবে দোষ স্বীকার না করেন, তবে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি আরোপ করা হবে।

এই মামলাটি দেশের মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজর পাচ্ছে। রামপুরা হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছে এবং ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে শেষ পর্যন্ত ন্যায়সঙ্গত বলে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যাশা রাখে।

আইসিটি‑১-এ গৃহীত এই পদক্ষেপটি দেশের অপরাধমূলক অপরাধের মোকাবিলায় আইনি কাঠামোর কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আদালতের পরবর্তী রায় ও শাস্তি নির্ধারণের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments